বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা এবং তাদের ওপর সাম্প্রতিক সহিংসতার সঠিক তদন্ত ও সুরাহা চেয়েছে ভারত। একই সঙ্গে পরিস্থিতি বাংলাদেশ সরকার যথাযথ গুরুত্ব ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে মোকাবিলা করবে বলে প্রত্যাশা প্রকাশ করেছে নয়াদিল্লি।
বুধবার (১৫ অক্টোবর) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এ প্রত্যাশার কথা জানান।
ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, গত তিন মাসে দেশে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ওপর খুনসহ ১৪১টি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। এর আগেও বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সংগঠনগুলো একই বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছিল। ওই সাংবাদিক এ বিষয়ে ভারতের অবস্থান জানতে চান। জবাবে জয়সওয়াল বলেন, ‘আমাদের প্রত্যাশা, বাংলাদেশ সরকার এ ধরনের বিষয়ের সুরাহা করবে।’
একই ব্রিফিংয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুর এক সাংবাদিক জানতে চান, দিল্লিতে অনুষ্ঠিত আঞ্চলিক জোট বিমসটেকের প্রথম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ কেন অনুপস্থিত ছিলেন। জবাবে জয়সওয়াল বলেন, “স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পরিবর্তে স্বরাষ্ট্রসচিবের নেতৃত্বে বাংলাদেশের যে প্রতিনিধিদল বৈঠকে অংশ নিয়েছে, দিল্লি তা ইতিবাচক নিরাপত্তা সহযোগিতার অংশ হিসেবেই দেখছে।”
বৈঠক শেষে যৌথভাবে গৃহীত “দিল্লি ঘোষণা”র কথা স্মরণ করিয়ে জয়সওয়াল বলেন, “বিমসটেকভুক্ত অঞ্চলজুড়ে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা, সীমান্ত দিয়ে মাদক পাচার প্রতিরোধ এবং অর্থ পাচারবিরোধী কার্যক্রমে পারস্পরিক সমন্বয় জোরদার করতে সব দেশ একমত হয়েছে।” তার ভাষ্য, ঢাকার অংশগ্রহণ এ আঞ্চলিক নিরাপত্তা সহযোগিতাকে আরও গতিশীল করবে বলে ভারত আশা করছে।
ব্রিফিংয়ে সৌদি আরবের বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন অবকাঠামোতে ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিদের ধারাবাহিক হামলা ও প্রাণহানির ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান জয়সওয়াল। এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে “একদমই অগ্রহণযোগ্য” আখ্যা দিয়ে তিনি বিদেশে থাকা ভারতীয়দের সুরক্ষা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে দিল্লির প্রতিশ্রুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
গত শনিবার সৌদি আরবের রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতিদের হামলায় দুজন বাংলাদেশিসহ ১২ জন নিহত হন। আহত হন তিন শতাধিক মানুষ, যাদের মধ্যে ১১ জন ভারতীয় নাগরিক।