জার্মানিতে দেশজুড়ে প্রায় ৫,৭০০ রেল স্টেশনে মদ্যপান নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এখন থেকে জার্মানির সব রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্মও অ্যালকোহলমুক্ত এলাকা হিসেবে গণ্য হবে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) মধ্যরাত থেকে এ নিয়ম কার্যকর হয়।
এর ফলে অনেক ফুটবল ভক্তও সমস্যায় পড়বেন। এখন থেকে আর বুন্ডেসলিগার ম্যাচ দেখতে দল বেঁধে ট্রেনে উঠে মদ্যপান করা যাবে না।
যে কারণে এই নিয়ম
জার্মানির অনেক রেল স্টেশনে অ্যালকোহল সংক্রান্ত নানা ধরনের বিশৃঙ্খলা ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটছে দীর্ঘদিন ধরে। এ কারণে রেল স্টেশনে মদ্যপান নিষিদ্ধ করার আলোচনা চলছিল। সে আলোচনা জোর পায় সাম্প্রতিক দুটি ঘটনায়।
এক ঘটনায় জার্মানির রাষ্ট্রীয় রেলওয়ে সংস্থা ‘ডয়চে বান’র ২৬ বছর বয়সি এক নিরাপত্তা কর্মী মদ্যপ এক যাত্রীর টিকিট পরীক্ষা করতে গিয়ে আক্রান্ত হন। মদ্যপ সেই যাত্রী তাকে মারধর করেন, লাথিও মারেন। দুজনের ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে ট্রেনের দরজা খুলে যায় এবং ওই নিরাপত্তা কর্মী ট্রেন থেকে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হন।
চলতি বছরের শুরুর দিকে ট্রেনের এক কন্ডাক্টর নিহত হন বৈধ টিকিটহীন এক ব্যক্তির হামলায়। এই দুটি ঘটনার পর রেল স্টেশনকে অ্যালকোহলমুক্ত করার দাবি জোরদার হয়।
নির্দিষ্ট কিছু স্থানে ব্যতিক্রম
রেল স্টেশন অ্যালকোহলমুক্ত হলেও স্টেশনে যেসব পাব, রেস্তোরাঁ এবং এ ধরনের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে, সেগুলো এই নিয়মের আওতামুক্ত থাকবে। অর্থাৎ, সেসব স্থানে অ্যালকোহল পরিবেশন করা যাবে। এছাড়া অনেক ট্রেনে, বিশেষ করে দূরপাল্লার ট্রেনগুলোর ডাইনিং কামরায় (বিস্ত্রোয়) আগের মতোই বিয়ার ও অন্যান্য পানীয় পরিবেশন করা হবে।
ডয়চে বান এক বিবৃতিতে বলেছে, রেল স্টেশনগুলোকে আরও নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন এবং যাত্রীদের জন্য আরামদায়ক করে তোলার জন্যই স্টেশনকে অ্যালকোহলমুক্ত করা হচ্ছে।
ডয়চে বান আরও জানায়, পুরোপুরি কার্যকর করার আগে কোলন, মিউনিখ, হামবুর্গ ও বার্লিনের মতো বড় স্টেশনসহ ৪০টির মতো স্টেশনে পরীক্ষামূলকভাবে এ নিয়ম প্রয়োগ করা হয়েছে। তখন বেশ ইতিবাচক ফল পাওয়ার কথাও জানিয়েছে তারা।
বিবৃতিতে বলা হয়, পরীক্ষামূলকভাবে অ্যালকোহলমুক্ত করায় ওই স্টেশনগুলোর পরিবেশ অনেক শান্ত ছিল, আবর্জনার পরিমাণও কমেছিল।
গৃহহীনদের নিয়ে উদ্বেগ
জার্মানিতে গৃহহীনদের সহায়তা করে এমন একটি সংগঠন অবশ্য রেল স্টেশনে অ্যালকোহল নিষিদ্ধ করাকে ভালো চোখে দেখছে না। মদ্যপানে আসক্ত অনেক গৃহহীনের জন্য রেল স্টেশনগুলো অনেক ক্ষেত্রে নিরাপদ আশ্রয়ের মতো। বিশেষ করে প্রতিকূল আবহাওয়ায় তাদের অনেকেই রেল স্টেশনে আশ্রয় নেন।
সংগঠনটির এক মুখপাত্র জার্মানির রাইনিশে পোস্ট সংবাদপত্রকে জানান, বিষয়টি নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। কারণ, রেল স্টেশনের মতো জায়গা থেকে তাদের সরিয়ে দেওয়া হলে সমাজকর্মীদের পক্ষে তাদের খুঁজে বের করা আরও কঠিন হয়ে পড়বে।