চোখের কর্নিয়া প্রতিস্থাপন পদ্ধতি ‘ইসলামি শিক্ষার পরিপন্থি’ যুক্তি দেখিয়ে তালেবান সরকার আফগানিস্তানে সার্জনদের এই অপারেশন বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন।
তালেবান সরকারের এরকম ভিত্তিহীন সিদ্ধান্তের ফলে আফগানিস্তানে প্রতি বছর শত শত লোক দৃষ্টি রক্ষার অপারেশন থেকে বঞ্চিত হবেন বলে দাবি করেছেন দেশটির ডাক্তার ও সার্জনরা।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফ চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, টেলিগ্রাফের সাংবাদিকদের চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, আফগানিস্তানে কর্নিয়া প্রতিস্থাপনের ব্যাপক প্রয়োজন রয়েছে। বিস্ফোরণ ও বিভিন্ন দুর্ঘটনায় চোখের ক্ষতি হওয়া রোগীদের দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে আনতে এ অস্ত্রোপচার গুরুত্বপূর্ণ।
কাবুলের নূর আই হাসপাতালের চিকিৎসক নূর জামান হাশিম টেলিগ্রাফকে জানিয়েছেন, তালেবানের নির্দেশে কর্মসূচি বন্ধ হওয়ার আগে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তাদের হাসপাতালে ৯০টি কর্নিয়া প্রতিস্থাপন করা হয়েছিল।
তার মতে, হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের অপেক্ষায় থাকা রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। তাদের বেশির ভাগই তরুণ। আঘাত, বিস্ফোরণ এবং ওয়েল্ডিংয়ের কাজ করতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে তারা দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন।
তিনি বলেছেন, ‘‘তালেবান মৌখিকভাবে আমাদের কর্নিয়া প্রতিস্থাপন বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে। কঠোর শাস্তির ঝুঁকি থাকায় কেউ তাদের নির্দেশ অমান্য করার সাহস পাচ্ছেন না।’’
প্রতিবেদনে কাবুলের বাসিন্দা সালামাত খানের বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। তিনি ২০২৩ সালে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছিলেন।
সালামাত খানের ভাষ্যমতে, চিকিৎসকরা তার অস্ত্রোপচারের জন্য সেপ্টেম্বর মাস নির্ধারণ করেছিলেন, কিন্তু আগস্ট মাসে তাকে জানানো হয় যে কর্মসূচিটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
জালালাবাদে এক বিস্ফোরণে চোখের আঘাত পাওয়া ৪০ বছর বয়সী খাদিজা বেগম টেলিগ্রাফ’-কে জানান, তিনি দুই মাস আগেই জালালাবাদ চক্ষু হাসপাতালে নাম নথিভুক্ত করেছিলেন, কিন্তু পরবর্তীতে তাকে জানানো হয় যে তালেবান কর্তৃপক্ষের নির্দেশে কর্মসূচিটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
কর্নিয়া হলো চোখের সামনের স্বচ্ছ অংশ। এটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলে, উপযুক্ত রোগীদের ক্ষেত্রে কর্নিয়া প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে দৃষ্টিশক্তি পুনরুদ্ধার বা উন্নত করা সম্ভব।
চিকিৎসকদের মতে, এই চিকিৎসা পদ্ধতি গ্রহণের সুযোগ সীমিত করে দিলে রোগীদের সামনে খুব কম বিকল্পই অবশিষ্ট থাকবে-বিশেষ করে এমন একটি দেশে, যেখানে এমনিতেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসাসেবার তীব্র সংকট রয়েছে।
২০২১ সালে ক্ষমতা দখলের পর থেকে স্বাস্থ্যসেবা, নারী শিক্ষা ও সামাজিক বিভিন্ন বিষয়ে নানান ধর্মীয় যুক্তি এবং রীতিনীতি দেখিয়ে তালেবান সরকার একের পর এক নির্দেশ জারি করছে। কর্নিয়া প্রতিস্থাপন নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তটি সেই ধারাবাহিকতার সর্বশেষ পদক্ষেপ।