Tuesday, September 08, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

৩৬ বছর পর নারীর পেটে পাওয়া গেল ‌‘পাথরের শিশু’, চিকিৎসাবিজ্ঞানে চাঞ্চল্য

গর্ভের সন্তানটি মারা গেলেও, অস্ত্রোপচারের ভয়ে তিনি হাসপাতাল ছেড়ে চলে যান এবং আর কোনো চিকিৎসা নেননি

আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৪৭ পিএম

গর্ভধারণের পর সন্তান জন্ম না হলেও বছরের পর বছর ধরে মায়ের পেটের ভেতরে থেকে যেতে পারে মৃত ভ্রূণ। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় অত্যন্ত বিরল এই অবস্থাকে বলা হয় ‘লিথোপেডিয়ন’ বা ‘পাথর শিশু’। জরায়ুর বাইরে থাকা মৃত ভ্রূণকে মানবশরীর স্বয়ংক্রিয়ভাবে ক্যালসিয়ামের শক্ত আস্তরণ দিয়ে ঘিরে ফেললে ধীরে ধীরে তা পাথরের মতো আকার ধারণ করে।

সম্প্রতি আন্তর্জাতিক চিকিৎসা গবেষণা প্রতিবেদনে এমনই এক বিস্ময়কর ঘটনার চিত্র উঠে এসেছে। ভারতের নাগপুরের ৬০ বছর বয়সী এক নারী তলপেটে তীব্র ব্যথা ও একটি শক্ত পিণ্ড নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় চিকিৎসকেরা হতবাক হয়ে যান। জরায়ুর পেছনে থাকা প্রায় ১১ বাই ৮ সেন্টিমিটার আকারের ওই পিণ্ডটি পরীক্ষার পর দেখা যায়, এটি ৩৬ বছর আগে মারা যাওয়া একটি ভ্রূণের ক্যালসিয়াম জমে যাওয়া অবশিষ্টাংশ।

রোগীর চিকিৎসার ইতিহাস থেকে জানা যায়, ১৯৭৮ সালে তিনি গর্ভবতী অবস্থায় জানতে পারেন যে তার গর্ভের সন্তানটি মারা গেছে। সে সময় অস্ত্রোপচারের ভয়ে তিনি হাসপাতাল ছেড়ে চলে যান এবং আর কোনো চিকিৎসা নেননি। দীর্ঘ ৩৬ বছর পর সেই পিণ্ডটি আশপাশের মূত্রনালি ও কিডনিতে চাপ দিতে শুরু করলে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তা অপসারণ করা হয়।

চিকিৎসকদের মতে, জরায়ুর বাইরে গর্ভধারণ (একটোপিক প্রেগনেন্সি) হলে এবং মৃত ভ্রূণটি শরীর নিজে থেকে শোষণ করতে না পারলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়। সংক্রমণ প্রতিরোধ করতে শরীর ভ্রূণটিকে পরজীবী উপাদান বিবেচনা করে ক্যালসিয়াম জমিয়ে শক্ত কভারে রূপান্তর করে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাসে বিশ্বজুড়ে এ ধরনের প্রায় ৩৩০টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।

মরক্কোর জাহরা আবুতালিব নামের এক নারীও ৪৬ বছর ধরে শরীরে মৃত ভ্রূণ বহন করেছিলেন, যা পরে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে বের করা হয়। বিশেষজ্ঞরা জানান, এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত বিরল হলেও মানবদেহের দীর্ঘমেয়াদি স্বয়ংক্রিয় প্রতিরোধব্যবস্থার একটি অনন্য ও বিস্ময়কর দৃষ্টান্ত।

   

About

Popular Links

x