Tuesday, September 08, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ছাত্রীদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের অভিযোগ, বিক্ষোভের পর শিক্ষককে অব্যাহতি

অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে

আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৪৯ পিএম

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় ছাত্রীদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য, অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে স্পর্শের চেষ্টা ব্যক্তিগতভাবে ডেকে অশালীন আচরণের অভিযোগে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা। পরে অভিযুক্ত শিক্ষক ফারুকুজ্জামান ফারুককে বিদ্যালয়ের সব কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার ( সেপ্টেম্বর) দুপুরে টুঙ্গিপাড়া সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত ফারুকুজ্জামান ফারুক বিদ্যালয়টির বিজ্ঞান বিষয়ের সহকারী শিক্ষক।

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ওই শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে ছাত্রীদের নিয়ে আপত্তিকর কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করতেন। ছাড়া ছাত্রীদের একা ডেকে ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে অশালীন মন্তব্য, অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে স্পর্শের চেষ্টা এবং ক্লাস শেষে খাতা দেখানোর কথা বলে একা যেতে বলার অভিযোগও রয়েছে।

এসব অভিযোগের প্রতিবাদে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে শিক্ষক ফারুকুজ্জামানের শাস্তি বদলির দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করে শিক্ষার্থীরা। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলা বিক্ষোভের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সেলিম তালুকদার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ দিদারুল আলম। তাদের আশ্বাসে বিক্ষোভ প্রত্যাহার করে শ্রেণিকক্ষে ফিরে যায় শিক্ষার্থীরা। সময় অভিযুক্ত শিক্ষক বিদ্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন না।

অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী বর্ষা অভিযোগ করে জানান, শিক্ষক ফারুক শ্রেণিকক্ষে বয়ঃসন্ধিকাল, পোশাক ওড়না নিয়ে বিভিন্ন কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করতেন। এমনকি পালস মাপার কথা বলে পোশাক নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করারও অভিযোগ করেন তিনি। এর আগেও ছাত্রীদের নিয়ে খারাপ কথা বলার জন্য ওই শিক্ষক অভিভাবকদের কাছে ক্ষমা চেয়েছিলেন বলে দাবি বর্ষার। তার দ্রুত শাস্তি বদলি দাবি করেন তিনি।

একই শ্রেণির শিক্ষার্থী জ্যোতি সরকার অভিযোগ করেন, শিক্ষক ফারুক বিভিন্ন সময়ে ছাত্রীদের আলাদাভাবে ডেকে ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ নিয়ে অশালীন মন্তব্য করতেন। বিদ্যালয় শেষে রাস্তায় চলার সময়ও অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে স্পর্শ করার অভিযোগ করেন তিনি।

আরেক শিক্ষার্থী ফারিয়া জানান, শিক্ষক ফারুক শ্রেণিকক্ষে ছাত্রীদের বিভিন্ন আপত্তিকর নামে সম্বোধন করতেন এবং তাদের পোশাক ঠোঁট নিয়ে মন্তব্য করতেন। পড়ানোর সময় আবাসিক হোটেল নিয়েও ছাত্রীদের সঙ্গে কথা বলতেন বলে অভিযোগ তার। ছাড়া অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করার অভিযোগও করেন তিনি।

বিষয়ে আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, শিক্ষক ফারুক ছাত্রীদের সঙ্গে যে ধরনের ভাষা ব্যবহার করতেন, তা কোনোভাবেই একজন শিক্ষকের কাছ থেকে প্রত্যাশিত নয়। তারা অভিযুক্ত শিক্ষকের শাস্তি বদলির দাবি জানান।

অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক ফারুকুজ্জামান ফারুকের বক্তব্য জানতে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

টুঙ্গিপাড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সেলিম তালুকদার বলেন, “শিক্ষার্থীরা শিক্ষক ফারুকুজ্জামানের শাস্তি বদলির দাবিতে বিক্ষোভ করেছে। পরে ইউএনওর আশ্বাসে তারা বিক্ষোভ প্রত্যাহার করে শ্রেণিকক্ষে ফিরে যায়। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় অভিযুক্ত শিক্ষককে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কমিটিকে এক সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।“

টুঙ্গিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ দিদারুল আলম বলেন, “অভিযুক্ত শিক্ষককে বিদ্যালয়ের সব কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।“

   

About

Popular Links

x