দক্ষিণ কোরীয় মোবাইল নির্মাতা প্রতিষ্ঠান স্যামসাংয়ের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের করাচিতে “ইসলাম ধর্ম অবমাননার” অভিযোগ উঠেছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পরা ভিডিওতে দেখা যায়, শহরজুড়ে প্রতিষ্ঠানটির লোগো-বিলবোর্ড ও বিক্রয়কেন্দ্রে ভাঙচুর করছে স্থানীয়রা।
পাকিস্তানের নিউজ চ্যানেল আজ নিউজ জানিয়েছে, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত স্যামসাংয়ের ২৭ জন কর্মকর্তাকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে ঘটনার সূত্রপাত নিয়ে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পাকিস্তানি গণমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়, স্যামসাংয়ের নতুন একটি কিউআর কোডে এমন কিছু ছিল যা একটি গোষ্ঠীর “ধর্মানুভূতিতে আঘাত” হানতে পারে।
পরবর্তীতে জানা যায়, কথিত “ধর্ম অবমাননাকর” বিষয়টি করাচি শহরের সিটি মলের স্যামসাং বিক্রয়কেন্দ্রে অবস্থিত একটি “ওয়াইফাই ডিভাইসের” মাধ্যমে ছড়িয়েছে।
এ ঘটনায় স্যামসাং এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “তারা ধর্মীয় বিষয়ে নিরপেক্ষতা বজায় রাখে। ইসলাম ধর্মকে অবমাননা করার কোনো কারণ নেই। তারা বিষয়টি নিয়ে অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করেছে।”
এদিকে, অভিযোগ ছড়ানোর পর জনরোষ বাড়তে থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে কাজ চলছে বলে জানিয়েছে করাচি পুলিশের সাইবার অপরাধ দমন শাখা।
পাকিস্তানে প্রচলিত আইনগুলোর মধ্যে “ধর্ম অবমাননা অর্থাৎ “ব্লাসফেমি” আইনটি অন্যতম। এই আইনে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ সর্বোচ্চ শাস্তি “মৃত্যুদণ্ড”র বিধানও রয়েছে। ১৯৮২ সালে কোরআনের অবমাননার জন্য একজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের মাধ্যমে আইনটির প্রয়োগ শুরু হয়।
যদিও পাকিস্তানের মানবাধিকার সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, এই আইনের অপপ্রয়োগ করা হচ্ছে। অনেক নিরাপরাধ ব্যক্তিকে “উদ্দেশ্যমূলকভাবে” এই আইনে হেনস্তা করা হচ্ছে। তারা সংখ্যালঘুর জন্যও আইনটিকে বিপজ্জনক বলে মনে করেন।