পাকিস্তানের ব্রড পিকে তুষারধসে খ্যাতিমান ব্রিটিশ-নেপালি পর্বতারোহী নির্মল পুরজাসহ (নিমস দাই) আরও নয় পর্বতারোহীর সবাই নিহত হয়েছেন। প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেই উদ্ধারকারীরা মরদেহ উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
স্থানীয় সময় শনিবার (১ আগস্ট) নির্মল পুরজার অভিযাত্রী প্রতিষ্ঠান এলিট এক্সপেড এ তথ্য নিশ্চিত করে।
এক বিবৃতিতে এলিট এক্সপেড জানায়, পর্বতারোহণের জগৎ তাদের অন্যতম সেরা একজন পর্বতারোহীকে হারিয়েছে। একইসঙ্গে দুর্ঘটনায় নিহত অন্য পর্বতারোহীদের প্রতিও গভীর শোক প্রকাশ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “এই অকল্পনীয় ক্ষতির বেদনা লাঘব করার মতো কোনো শব্দ তাদের কাছে নেই।”
গত বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের ব্রড পিকে পর্বত আরোহণের সময় ১০ সদস্যের ওই পর্বতারোহী দলটি তুষারধসে নিঁখোজ হন। তবে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে তাদের খোঁজে উদ্ধারকারী হেলিকপ্টারের উড্ডয়ন ব্যাহত হয়।
এরপর শুক্রবার উদ্ধারকারীরা দলটির চারজনের মরদেহ শনাক্ত করেন এবং তার মধ্যে তিনটি উদ্ধার করতে সক্ষম হন। শনিবার থেকে সামরিক বাহিনীর হেলিকপ্টারের সহায়তায় বাকি সদস্যদের অনুসন্ধানে আবারও অভিযান শুরু হয়।
এ বিষয়ে পাকিস্তানের আলপাইন ক্লাবের সভাপতি ইরফান আরশাদ খান বলেন, “পর্বতের টানে বিভিন্ন দেশ থেকে একত্রিত হওয়া এই সাহসী পর্বতারোহীদের মৃত্যু বিশ্ব পর্বতারোহণ অঙ্গনের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।”
এ সময় তিনি উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া পাকিস্তানের সামরিক ও বেসামরিক উদ্ধারকারী এবং শেরপাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, “পর্বতের সৌন্দর্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে। তবে একইসঙ্গে এ ধরনের দুর্ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, হিমালয় ও কারাকোরামের দুর্গম পর্বতে অভিযান চালানো কতটা ঝুঁকিপূর্ণ।”
এর আগে, শনিবার স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা তাহির খান জানান, ওমানের পর্বতারোহী নাথিরা আহমেদের মরদেহ পাকিস্তানের ইসলামাবাদে পাঠানো হচ্ছে। অন্যদিকে, মার্কিন পর্বতারোহী ম্যালোরি গেইস ও নেপালের বাহাদুর গুরুঙের মরদেহ পাকিস্তানের উত্তরাঞ্চলের গিলগিট-বালতিস্তান অঞ্চলের প্রধান শহর স্কার্দুর একটি হাসপাতালে রাখা হয়েছে।
গেইসের পরিবারের এক বিবৃতিতে বলা হয়, “ম্যালোরি একজন প্রাণবন্ত মানুষ ছিলেন। তাকে তার পরিবার ও বন্ধুরা গভীরভাবে ভালোবাসতেন। তাকে আমাদের ভীষণ মনে পড়বে।”
এই অভিযানের নেতৃত্ব দেন নেপালে জন্ম নেওয়া সাবেক ব্রিটিশ সেনাসদস্য নির্মল পুরজা, যিনি ‘নিমস দাই’ নামেই অধিক পরিচিত ছিলেন। ২০১৯ সালে তিনি মাত্র ১৮৯ দিনে বিশ্বের ১৪টি সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ জয় করে বিশ্বরেকর্ড গড়েন। তার এই অসাধারণ কীর্তি নিয়ে ‘ফোরটিন পিকস: নাথিং ইজ ইম্পসিবল’ নামে একটি প্রামাণ্যচিত্রও নির্মিত করেছিল নেটফ্লিক্স।
পুরজার প্রতিষ্ঠান তাকে স্মরণ করে জানায়, তিনি এমন একজন মানুষ ছিলেন, যিনি নিজের সাহস, বিনয়ের মাধ্যমে লাখো মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছেন। তিনি এই বিশ্বাসে অটল ছিলেন যে মানুষের সামর্থ্য আমাদের কল্পনার চেয়েও অনেক বেশি।
অপরদিকে, ম্যালোরি গেইস প্রথমবারের মতো পাকিস্তানে ৮,০০০ মিটার উচ্চতার পর্বতশৃঙ্গে আরোহণের চেষ্টা করছিলেন। এছাড়া মুভিং মাউন্টেইনস ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির গাইড, ভূগোলবিদ ও পাহাড়ি বা উঁচু অঞ্চলের আলোকচিত্রী সাখির জন্য এটিই তার জীবনের শেষ পর্বত অভিযান হওয়ার কথা ছিল। তিনি বিশ্বের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পর্বতশৃঙ্গে আরোহণ করেছেন।
উত্তর পাকিস্তানে তুষারধস, বরফ ও পাথর ধসে পড়া এবং অতিরিক্ত উচ্চতা ও দ্রুত পরিবর্তনশীল আবহাওয়ার কারণে পর্বতারোহণের সময় প্রায়ই এমন দুর্ঘটনা ঘটে।



