পরিবেশ দূষণের কারণে দিনদিন অসহনীয় হয়ে উঠছে পৃথিবীর তাপমাত্রা। জলবায়ূর বিরূপ প্রভাবে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে “সহায়-সম্বলহীন” দেশগুলো। জলবায়ু রক্ষায় বিশ্বনেতারা জোরালো ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে আসছেন।
এবার সেই ধারাবাহিকতায় আফ্রিকান দেশ নাইজেরিয়ার জলবায়ু নিয়ে কাজ করা কিশোর বয়সী কর্মীরা আয়োজন করছে এক অভিনব ফ্যাশন শো”র।
সোমবার (২১ নভেম্বর) এপির বরাতে ওয়াশিংটন পোস্ট এক প্রতিবেদনে জানায়, ফ্যাশন শো”র রানওয়েতে পরার জন্য নাইজেরিয়ার কিশোররা আবর্জনা রিসাইক্লিং (পুনর্ব্যবহার) করে পোশাক বানিয়েছে। তারা এই ফ্যাশন শো”টির নাম দিয়েছে, “ট্র্যাশন শো”।
এসব কিশোর ও তরুণ অ্যাকটিভিস্টদের সঙ্গে কাজ করা সংগঠন গ্রিনফিঙ্গারস ওয়াইল্ডলাইফ ইনিশিয়েটিভের প্রতিষ্ঠাতা চিনেদু মোগবো জানান, পরিবেশ দূষণ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতেই ফ্যাশন শো-টির আয়োজন করা হয়েছে।
আফ্রিকার অন্যতম জনবহুল এবং নাইজেরিয়ার সর্ববৃহৎ শহর লাগোসে ১৫ মিলিয়নেরও বেশি লোকের বাস, যারা প্রতিদিন কমপক্ষে ১২ হাজার মেট্রিক টন বর্জ্য তৈরি করে। বিশ্বব্যাংকের অনুমান, দূষণের কারণে প্রতি বছর এই শহরে অন্তত ৩০ হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটে।
মিশরে জাতিসংঘের জলবায়ু বিষয়ক আলোচনার দুই সপ্তাহের মধ্যেই এবারের ফ্যাশন শোটি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গ্রিনফিঙ্গারস ওয়াইল্ডলাইফ ইনিশিয়েটিভ জানিয়েছে, তরুণ অ্যাক্টিভিস্ট এবং মডেলদের সহযোগিতায় তারা যত বেশি সম্ভব প্লাস্টিক রিসাইকল করতে প্রস্তুত।
তাদের স্বেচ্ছাসেবীরা নিয়মিত বিভিন্ন ড্রেন এবং সমুদ্রসৈকত থেকে আবর্জনা নিষ্কাশনের কাজ করে থাকে। এরপর প্লাস্টিক লিটার ব্যবহার করে ফ্যাশন শোয়ের জন্য কাপড় তৈরি করা হয়।
ফ্যাশন শোতে অংশ নিয়েছিলেন ১৬ বছরের ন্যাথানিয়েল এডেগওয়া। লাল প্লাস্টিকের চামচ এবং ফেব্রিকে রানওয়েতে হাঁটা এই কিশোরী জানায়, “পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে” মডেল হিসেবে এ বছরের ফ্যাশন শো-য়ে অংশ নিয়েছেন তিনি।
তিনি বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে আমরা সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি, আমি তাই সত্যিই চাই এ অবস্থার পরিবর্তন ঘটুক।”