পেরুতে বিক্ষোভ-সহিংসতায় ২০ জনের মৃত্যু

দক্ষিণ আমেরিকার দেশ পেরু একটি কঠিন রাজনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক প্রেসিডেন্টকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ২০২০ সালে মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে পাঁচজন প্রেসিডেন্ট পেয়েছিল দেশটি। সম্প্রতি দেশটির নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট পেদ্রো ক্যাস্তিলোকে অভিশংসনের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত ও গ্রেপ্তার করা হয়।

এতে সংকট আরও বেড়ে যায়। কাস্তিলোকে অভিসংশনের ঘটনায় পেরুতে চলমান বিক্ষোভে ২০ জনের বেশি নিহত হয়েছেন। পেরুতে গভীর রাজনৈতিক সংকট নিরসনে জরুরি পর্যায়ের আলোচনা শুরু হয়েছে। দেশটির সব রাজনৈতিক প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত কাউন্সিল অব স্টেট এবং গির্জার নেতারা রাজধানী লিমাতে জড়ো হয়েছেন।  

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে জনায়, শুক্রবার (১৬ ডিসেম্বর) দেশটির রাজধানী লিমায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ৭ ডিসেম্বর দেশটির বামপন্থি প্রেসিডেন্ট ক্যাস্তিলো অভিশংসনে ক্ষমতাচ্যুত হন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে চলমান সহিংস বিক্ষোভের প্রতিক্রিয়ায় সরকারের দুই মন্ত্রী পদত্যাগ করেন।

শুক্রবার সন্ধ্যার ওই বৈঠকের পর পেরুর ন্যাশনাল বোর্ড অব জাস্টিসের প্রধান হোসে আভিয়া দেশের সকল নাগরিককে সহিংসতা এড়াতে এবং কর্তৃপক্ষের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ আলোচনায় বসতে আহ্বান জানান।

এ ধরনের আলোচনাকে উৎসাহিত করতে মন্ত্রীরা যে যে এলাকায় বিক্ষোভ হচ্ছে সেখানে যাবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি। তবে দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট দিনা বলুয়ার্তে এ বিষয়ে কোনো বিবৃতি দেননি।

এদিকে বিক্ষোভকারীরা পেরুর স্থানীয় একটি বিমানবন্দরের কার্যক্রম জোর করে বন্ধ করে দেওয়ার পর দেশটির দক্ষিণপূর্ব শহর কুসকোতে কয়েক হাজার পর্যটক আটকা পড়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ক্যাস্তিলো এক ঘোষণায় দেশের পার্লামেন্ট কংগ্রেস বিলুপ্ত করে জরুরি অবস্থার ঘোষণা দিতে যাচ্ছেন জানানো পর সাম্প্রতি সংকটের সূচনা হয়। তবে তার ওই পরিকল্পনার ফল হিতে বিপরীত ফল বয়ে আনে। অভিশংসনে কাস্তিলো ক্ষমতাচ্যুত হন আর বলুয়ার্তেকে নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এর পরপরই ক্যাস্তিলোকে আটক করা হয়, তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগে তদন্ত চলছে।

বামপন্থি এ রাজনীতিক তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেকে এখনো দেশটির বৈধ প্রেসিডেন্ট হিসেবে দাবি করছেন। তার সমর্থক বিক্ষোভকারীরা কংগ্রেস ভেঙে দিতে এবং আগাম নির্বাচনের দাবিতে তাদের কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে।

শুক্রবার কংগ্রেস নির্বাচন আগামী বছর এগিয়ে আনার একটি প্রস্তাব খারিজ করে দিয়েছে। বৃহস্পতিবার কেন্দ্রস্থ আয়াকুচো অঞ্চলে ক্যাস্তিয়ো সমর্থক ও সেনাবাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ৮ জন নিহত হয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, বিক্ষোভকারীরা দেশটির একাধিক প্রধান সড়ক ও কয়েকটি বিমানবন্দর আটকে দিয়েছে। বৃহস্পতিবারের ওই সংঘর্ষের কয়েক ঘণ্টা পর শিক্ষামন্ত্রী প্যাট্রিসিয়া কোরেয়া পদত্যাগের ঘোষণা দেন। পরে সংস্কৃতিমন্ত্রী জাইর পেরেজও পদত্যাগ করেন।

বিক্ষোভ দেশটির পর্যটন খাতেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। কুসকোর মেয়র প্যারিসভিত্তিক একটি বার্তা সংস্থাকে বলেছেন, বিক্ষোভকারীরা টার্মিনালে হানা দেওয়ায় বিমানবন্দর বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শহরটিতে প্রায় ৫ হাজার পর্যটক আটকা পড়েছেন।

এই শহরটিই মাচুপিচুর প্রবেশদ্বার, প্রাচীন এই ইনকা স্থাপনাটি দেখতে বছরে লাখ লাখ পর্যটক পেরুতে যায়। রেলওয়ে চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্থাপনাটি যে পাহাড়ে অবস্থিত তার পাদদেশের ছোট শহরেও ৮০০ পর্যটক আটকা পড়েছেন। অনেক মার্কিন ও ইউরোপীয় পর্যটক পরে কুস্কোতে ফিরতে রেললাইন ধরে পায়ে হেঁটে শহর ছেড়েছেন।