মুঘলদের প্রতি বিজেপির বিদ্বেষ নতুন নয়। মুসলিম এই শাসকদের বিরুদ্ধে নানা সময় সমালোচনামূলক বক্তব্যও দিয়েছেন দলটির নেতারা। এমনকি তারা উদ্যোগ নিয়ে পাঠ্যবই থেকে মুঘলদের ইতিহাস বাদ দিয়েছেন।
সম্প্রতি উত্তরপ্রদেশের যোগী সরকার নিজেদের রাজ্যে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করে। এরপর এক প্রতিক্রিয়ায় বিজেপি নেতা কপিল মিশ্র এজন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানান।
মুঘলদের চোর মন্তব্য করে তিনি বলেন, “এনসিইআরটি থেকে মুঘলদের মিথ্যা ইতিহাস মুছে ফেলা একটি দুর্দান্ত সিদ্ধান্ত। চোর, পকেটমার ও দুই পয়সা রোড রেইডারদের মুঘল সালতানাত ও ভারতের সম্রাট বলা হত। আকবর, বাবর, শাহজাহান, আওরঙ্গজেব ইতিহাসের বইয়ে নেই, ডাস্টবিনে আছে।”
একটি টুইটে মিশ্র বলেন, মুঘল সাম্রাজ্যের “মিথ্যা দাবি” সংশোধন করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, “ইতিহাস থেকে মুঘলদের মিথ্যাচার মুছে ফেলা হচ্ছে। এখন পরবর্তী পর্বে তাদের সত্যতা জানানো হবে। মুঘলদের লুটপাট, ব্যাভিচার, নৃশংসতা, কাপুরুষতা, মন্দির ও মূর্তি বিদ্বেষ, তাদের প্রকৃত কন্যা-বোনদের সাথে তাদের সম্পর্ক, তাদের সন্তানরা মাতাল ও হারেমে যেসব কাজ করতো, তাদের শিল্প, সাহিত্য ও সঙ্গীতের প্রতি ঘৃণাও সবাইকে জানানো উচিত।”
মৌলিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার অতিরিক্ত মুখ্য সচিব দীপক কুমার জানান, “বর্তমান শিক্ষাবর্ষ থেকে উত্তর প্রদেশের স্কুলে নতুন সম্পাদিত পাঠ্যপুস্তক দেওয়া হবে।”
শিক্ষা দপ্তর বলছে, মুঘল দরবারের লেখা মুছে ফেলা হয়েছে। এ ছাড়া একাদশ শ্রেণির ইতিহাস বই থেকে ইসলামের উত্থান, শিল্প বিপ্লব, সংস্কৃতির সংঘর্ষ এবং সময়ের সূচনা বাদ দেওয়া হয়েছে। একই সময়ে, নাগরিক বিজ্ঞান বই থেকে কোল্ড ওয়ার ও আমেরিকান আধিপত্যের পাঠও মুছে ফেলা হয়েছে।
আগে থেকেই দেশটিতে আকবরনামা, বাদশাহনামা, পাণ্ডুলিপির রচনা, মুঘল সম্রাট ও তাদের সাম্রাজ্য, আদর্শ রাষ্ট্র, উপাধি, রাজকীয় আমলাতন্ত্র, রাজপরিবার, তথ্য ও সাম্রাজ্য, মুঘল অভিজাততন্ত্র ও আনুষ্ঠানিক ধর্ম শেখানো হতো।
তবে ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষ থেকে, এনসিইআরটি দ্বাদশ শ্রেণির বইয়ের ভারতীয় ইতিহাস-২-এর কিছু বিষয় থেকে মুঘল দরবার ও শাসক সম্পর্কিত পাঠ্যটি সরিয়ে দিয়েছে।
দ্বাদশ শ্রেণির নাগরিক বিজ্ঞানের বই থেকে আমেরিকান আধিপত্য ও ঠাণ্ডা যুদ্ধ সম্পর্কিত লেখাটি মুছে ফেলা হয়েছে।
এছাড়া স্বাধীন ভারতে রাজনীতির বই থেকে এক দলের আধিপত্য ও গণ-আন্দোলনের উত্থানের সময়কাল মুছে ফেলা হয়েছে।
একই সাথে দশম শ্রেণির বই থেকে গণসংগ্রাম ও আন্দোলন, গণতন্ত্র ও বৈচিত্র্য এবং গণতন্ত্রের চ্যালেঞ্জের পাঠ মুছে ফেলা হয়।