ইঁদুরের জন্য ত্যক্ত বিরক্ত ছিলেন সাইপ্রাসের কৃষকরা। বিষ দিয়ে, ফাঁদ পেতে নানাভাবে চেষ্টা করলেও ফল মিলছিল না। অবশেষে তাদের রক্ষায় ভূমিকা রাখছে পেঁচা।
এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সিঙ্গাপুরভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট।
প্রতিবেদনে বলা হয়, রিপাবলিক অব সাইপ্রাস এবং রিপাবলিক অব নর্দার্ন সাইপ্রাসের মধ্যবর্তী নো-ম্যান্স-ল্যান্ড অঞ্চলে বিস্তীর্ণ এলাকায় চাষ করেন কৃষকরা। সেই ফসল খেয়ে সাবার করতো ইঁদুর।
সেখানেই এগিয়ে আসে “বার্ডলাইফ” নামে এক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। শুরুতেই তারা ইঁদুর মারতে বিষ ব্যবহারে কৃষকদের নিরুৎসাহিত করে।
এরপর কৃষি জমির পাশে বিভিন্ন গাছের ডালে পেঁচাদের থাকার মতো প্রায় ৫০টি কাঠের বাক্স বসায় তারা। সেখানে বাসা বেধে ভূমিকা রাখতে শুরু করে পেঁচা।
তথ্য বলছে, গত এক দশক ধরে চলা এই প্রক্রিয়া বেশ কাজে দিয়েছে।
বার্ডলাইফের এক সমীক্ষায় বলা হয়, বছরে কম করে হলেও ৫ হাজার ইঁদুর মারে ওই অঞ্চলে চাষের জমির আশপাশে বাসা বাঁধা পেঁচারা।
বিশেষত “বার্ন” প্রজাতির পেঁচাদেরই দেখা মেলে সেখানে। ইউরোপজুড়ে যাদের সংখ্যা কমে আসায় একসময় চিন্তায় পড়েছিলেন পরিবেশবিদরা।
গমের ক্ষেতের মাঝে দাঁড়িয়ে কৃষক ক্রিস্টোডোলোস ক্রিস্টোডৌলু বলেন, “এখন আমি বিশ্রাম নিতে পারি। আমাদের গ্রাম ইঁদুর আর ইঁদুরে পরিপূর্ণ ছিল। তারা আমাদের ফসল খেয়ে ফেলত, আমাদের টায়ারে ছিঁড়ে ফেলত। তারপর আমরা পেঁচার জন্য বাক্সগুলো স্থাপন করি। এখন আর ইঁদুরের সমস্যা নেই।”
তিনি আরও বলেন, “ইঁদুর দমনে পেঁচার কৃতিত্ব আমার কাছে অলৌকিক ঘটনার মতো! পেঁচার কারণে আমাদের জমিতে বিষ প্রয়োগ করতে হচ্ছে না।”