১৯৭৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত সরকারকে উৎখাত করে ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা করে ইরান। এর চার বছর পর ১৯৮৩ সালের এপ্রিল মাসে দেশটিতে নারীদের জন্য হিজাব বাধ্যতামূলক করা হয়। সেটি তদারকির জন্য ১৬ বছর আগে গঠন করা হয় পুলিশের বিশেষ ইউনিট “নীতি পুলিশ”।
পুলিশের এই ইউনিটটি নারীদের পোশাক পরা নিয়ে কঠোর অবস্থান নেয়। যারা হিজাব পরতেন না তাদের গ্রেপ্তার, নির্যাতন শুরু করে। এর ধারাবাহিকতায় গত বছরের সেপ্টেম্বরে কুর্দি তরুণী মাহশা আমিনির ওপর নির্যাতন চালায় পুলিশ। একপর্যায়ে পুলিশ হেফাজতে তার মৃত্যু হয়।
মাহশার মৃত্যুর পরে দেশটিতে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়। সরকারও বিক্ষোভ দমনে কঠোর অবস্থান নেয়। চলমান বিক্ষোভ দমাতে সেসময় দেশটিতে ২০ হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়। মৃত্যু হয় প্রায় ৫০০ জনের। এছাড়া বিক্ষোভে যুক্ত থাকার দায়ে বিচার সম্পন্ন করা হয় বেশ কয়েক জনের।
নারীদের প্রতি বিরূপ আচরণ ও বিক্ষোভকারীদের প্রতি সহিংস আচরণের কারণে সেসময় ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে যুক্তরাষ্ট্র-ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বেশ কয়েকটি দেশ।
সেসময় হিজাব আইন পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছিল দেশটির শাসকগোষ্ঠী। বিক্ষোভের পর দেশটির অনেক নারী হিজাব পরা ছেড়ে দিয়েছিলেন।
এত মৃত্যু ও গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়েও ইরান তার কঠোর অবস্থান থেকে সরে আসতে পারেনি। রবিবার (১৬ জুলাই) আবারও ইরানের রাস্তায় “নীতি পুলিশ”কে টহল দিতে দেখা গেছে। ইরান পুলিশও এই কথা জানিয়েছে।
ইরান পুলিশ বলছে, জনসমাগম এলাকায় মেয়েদের হিজাব পরা বাধ্যতামূলকই। এই নিয়ম মেনে চলতে হবে। অন্যথায় নীতি পুলিশ ব্যবস্থা নেবে।
ইরান পুলিশের মুখপাত্র জানিয়েছেন, নীতি পুলিশের সদস্যরা গাড়িতে এবং হেঁটে রাস্তায় টহল দেবেন। ড্রেস কোড মানা না হলে তারা প্রথমত সাবধান করে দেবেন, প্রয়োজনে ব্যবস্থা নেবেন। যারা আইন ভাঙবেন, তাদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে।
প্রসঙ্গত, মাহসা আমিনির মৃত্যু ও বিক্ষোভের পর নীতি পুলিশ তাদের কার্যক্রম স্থগিত করেছিল। গত দশ মাস ধরে পুলিশের এই ইউনিটটি রাস্তায় নামেনি।