চিকুনগুনিয়ার প্রথম টিকার অনুমোদন

মশা-বাহিত ভাইরাস চিকুনগুনিয়ার বিরুদ্ধে প্রথম টিকার অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম নিয়ন্ত্রণ সংস্থা খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন-এফডিএ। বৃহস্পতিবার (০৯ নভেম্বর) ইক্সচিক নামের এই টিকা অনুমোদন দিয়েছে সংস্থাটি।

১৮ বছর বা তার চেয়ে বেশি বয়সী মানুষ এই টিকা ইনজেকশনের মাধ্যমে গ্রহণ করতে পারবেন।

এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

বর্তমানে চিকুনগুনিয়া ভাইরাসের জন্য কোনো ভ্যাকসিন বা চিকিৎসার সুযোগ নেই। ভাইরাসটি খুব কমই মারণঘাতী। তবে এতে আক্রান্ত লোকদের জ্বর হয় ও কখনও কখনও অস্থিসন্ধিতে ব্যথা হয়।

এবছর বিশ্বে সেপ্টেম্বরে প্রায় ৪৪০,০০০ জনের চিকুনগুনিয়া সংক্রমণ এবং ৩৫০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এবছর দক্ষিণ আমেরিকা এবং দক্ষিণ এশিয়াতেই বেশি মানুষ এ রোগে আক্রান্ত হয়েছে।

এফডিএ-র অনুমোদনের ফলে বিশ্বে শিগগিরই এই টিকাদান কর্মসূচি শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

‘ইক্সচিক’ নামের এই টিকা তৈরি করেছে ইউরোপের ভালনেভা সংস্থা। এটি এখন বাজারজাত করা হবে।

এফডিএর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও মুখপাত্র পিটার মার্কস এক বিবৃতিতে বলেছেন, “বয়স্ক এবং আগে থেকেই রোগে ভূগছেন এমন মানুষ চিকুনগুনিয়ায় সংক্রমিত হলে মারাত্মক রোগগ্রস্ত হয়ে পড়তে পারেন এবং দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগতে পারেন।”

এফডিএ জানিয়েছে, ২০০৮ সাল থেকে অন্তত পাঁচ মিলিয়ন চিকুনগুনিয়ার ঘটনা ঘটেছে। 

মশাবাহিত ডেঙ্গু ও জিকার মতো চিকুনগুনিয়াও এডিস মশার মাধ্যমে ছড়ায়। এই রোগ ১৯৫২ সালে আফ্রিকায় প্রথম শনাক্ত করা হয়। পরে ভারত, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, মিয়ানমার ও ইন্দোনেশিয়ার মতো এশিয়ার বিভিন্ন দেশে এর বিস্তার ঘটে।

ইউরোপীয় সেন্টার ফর ডিজিজ প্রিভেনশন অ্যান্ড কন্ট্রোল থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা গেছে, ব্রাজিলে এই বছর এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ সংখ্যক ২১৮,৬১৩ জনের চিকুনগুনিয়া আক্রান্ত শনাক্ত করা হয়েছে।

ভারতে ৯৩,০০০ জনের বেশি চিকুনগুনিয়া আক্রান্ত শনাক্ত করা হয়েছে। যেখানে রাজধানী দিল্লি ২০১৬ সালে এই রোগের বড় প্রাদুর্ভাব দেখেছিল।