ডিজিটাল মুদ্রাব্যবস্থা ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহারে মুসলমানদের ক্ষেত্রে ধর্মীয় কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছে রাশিয়ার ওলামা কাউন্সিল।
সম্প্রতি সংস্থাটির পক্ষ থেকে এ বিষয়ক একটি ডিক্রি জারি করেছে। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে রুশ সংবাদমাধ্যম আরটি নিউজ।
ইসলামি আইন বা শরিয়ার সঙ্গে ক্রিপ্টোকারেন্সির সামঞ্জস্য রয়েছে কি-না, এই প্রশ্নে ইসলামি দেশগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক চলছে। একাংশের মতে ডিজিটাল অর্থব্যবস্থার সঙ্গে ইসলামের কোনো বিরোধ নেই। অন্য অংশ বলছে, এই অর্থব্যবস্থার সঙ্গে কোনো না কোনোভাবে জুয়ার সম্পর্ক রয়েছে। এই অবস্থায় ২০২১ সালে ক্রিপ্টোকারেন্সিভিত্তিক লেনদেনকে মুসলমানদের জন্য হারাম ঘোষণা করেছিল ইন্দোনেশিয়ার ধর্মীয় সংস্থা।
রাশিয়ার সরকারি বার্তা সংস্থা রিয়া নভোস্তিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ রুশ ওলামা কাউন্সিলের অন্যতম শীর্ষ নেতা এবং মস্কোর মুফতি ইলদার আলাউদ্দিনভ বলেন, “ইন্টারনেট প্রযুক্তির যেসব খাত জনগণের জীবনমানের উন্নয়নের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত, সেসব খাতকে কাউন্সিল সবসময়েই সমর্থন করে। এই নীতির আলোকে কাউন্সিল মনে করে, মুসলিমদের ক্রিপ্টোকারেন্সির ব্যবহার এবং বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ধর্মীয় কোনো বাধা নেই।”
মুফতি আলাউদ্দিনভ আরও জানান, জার্মানি, তুরস্ক, জর্ডান এবং মিসরের ওলামা এবং মুফতিদের সঙ্গে পরামর্শসাপেক্ষে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মূল ধারার আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের জন্য মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ক্রিপ্টো মুদ্রা প্রযুক্তি। এমন পরিস্থিতিতে মূলধারার অর্থনীতির জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত ক্রিপ্টো মুদ্রার বিকল্প হিসেবে নিজস্ব ডিজিটাল মুদ্রা প্রচলনের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে আগ্রহী এখন বিশ্বের অনেক দেশ।
মার্কিন থিংক ট্যাংক আটলান্টিক কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, এ মুহূর্তে সিডিবিসির সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের বিভিন্ন পর্যায়ে আছে ১০৫টি দেশ।
অন্যদিকে, গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে বৃহত্তম ক্রিপ্টো মুদ্রা বিটকয়েনকে অনুমোদিত মুদ্রার স্বীকৃতি দিয়েছে মধ্য আমেরিকার দেশ এল সালভাদর। সর্বশেষ, বিটকয়েনকে বৈধ মুদ্রার স্বীকৃতি দিয়েছে মধ্য আফ্রিকার দেশ সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক।