তাইওয়ানে গত ২৫ বছরের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। ৭.৪ মাত্রার শক্তিশালী কম্পনে অন্তত চারজন আহত ও শতাধিক আহত হয়েছে।
এ ভূমিকম্পের পরে দক্ষিণ জাপান ও ফিলিপাইনে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়, যা পরে তুলে নেওয়া হয়েছে।
তাইওয়ানের সরকার বলছে, পাহাড়ি ও অল্প জনবসতিপূর্ণ পূর্ব কাউন্টি হুয়ালিয়েনে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। ওই এলাকায় ৫০ জনের বেশি আহত হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ বলছে, এতে ২৬টি ভবন ধসে পড়েছে। অন্তত ২০ জন আটকা পড়েছে। তাদের উদ্ধারে কাজ চলছে।
তাইওয়ানের সেন্ট্রাল ওয়েদার অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের তথ্য বলছে, ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল ১৫.৫ কিলোমিটার (৯.৬ মাইল)।
তাইপেই হাসপাতালের কর্মী ৬০ বছর বয়সী চ্যাং ইউ-লিন বলেন, ‘‘এটি খুব শক্তিশালী ছিল। মনে হচ্ছিল বাড়িটি ভেঙে পড়বে।’’
জাপানের আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, বেশ কয়েকটি ছোট সুনামির ঢেউ ওকিনাওয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রিফেকচারের কিছু অংশে পৌঁছেছে। শুরুতে সুনামির সতর্কতা দেওয়া হলেও আপাতত না নামিয়ে ফেলা হয়েছে। এতে ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৭.৭।
ফিলিপাইন সিসমোলজি এজেন্সি বেশ কয়েকটি প্রদেশের উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের জন্য একটি সতর্কতা জারি করেছে, তাদের উঁচু ভূমিতে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভূমিকম্পের পরে অন্তত ২৫টির বেশি আফটারশক নিবন্ধিত হয়েছে।
ইলেক্ট্রিসিটি অপারেটর তাইপাওয়ার জানিয়েছে, ভূমিকম্পের কারণে তাইওয়ানের ৮৭,০০০ এরও বেশি পরিবার এখনও বিদ্যুৎবিহীন রয়েছেন।
তাইওয়ানের সরকারী কেন্দ্রীয় বার্তা সংস্থা বলেছে, ১৯৯৯ সালের পর দ্বীপে আঘাত হানা সবচেয়ে বড় ভূমিকম্প ছিল বুধবারের ভূমিকম্প। সেবার ৭.৬-মাত্রার কম্পনে প্রায় ২,৪০০ মানুষ মারা গিয়েছিল। তাইওয়ানের সবচেয়ে বড় ওই ভূমিকম্পে ৫০ হাজারের বেশি ভবন ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।