গবেষণা: ডুবছে চীনের প্রায় অর্ধেক বড় শহর

সমুদ্রের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে চীনের প্রায় অর্ধেক প্রধান শহর ডুবে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।

শুক্রবার (১৯ এপ্রিল) প্রকাশিত দেশটির স্যাটেলাইট তথ্য থেকে এমন কথা জানানো হয়েছে।

সায়েন্স জার্নালের প্রকাশিত গবেষণাপত্রে গবেষকরা লিখেছেন, চীনের নগর ভূমির ৪৫% প্রতি বছর ৩ মিলিমিটারের বেশি দ্রুত ডুবে যাচ্ছে। আর ১৬% প্রতি বছর ১০ মিলিমিটারেরও বেশি হারে ডুবছে।

চীনের শহুরে জনসংখ্যা ইতিমধ্যেই ৯০০ মিলিয়নেরও বেশি।

সাউথ চায়না নরমাল ইউনিভার্সিটির আও জুরুইয়ের নেতৃত্বে গবেষকদের দল বলেছে, ‘‘চীনের ছোট ছোট শহর এরইমধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। প্রায় এক চতুর্থাংশ উপকূলীয় ভূমি প্রকৃতপক্ষে সমুদ্রপৃষ্ঠের আরও কাছাকাছি নেমে যাচ্ছে। ফলে কয়েক মিলিয়ন মানুষকে আরও বেশি প্লাবনের ঝুঁকিতে ফেলেছে।’’

জলবায়ু সঙ্কট সমাধানে এরইমধ্যে চীনে বছরে ১.০৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয় হচ্ছে। 

ইস্ট অ্যাংলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের টিন্ডাল সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ রিসার্চের রবার্ট নিকোলস বলেছেন, ‘‘এটি চীনের জন্য একটি জাতীয় সমস্যা ও শুধুমাত্র একটি বা দুটি জায়গায় সমস্যা নয়। এটি বিশ্বের বাকি চারপাশে যা ঘটছে তার একটি প্রমাণ।’’

প্রায় ১৫ মিলিয়নের বেশি মানুষের বসবাস থাকা উত্তরের শহর তিয়ানজিনে ২০২৩ সালে আকস্মিক ভূতাত্ত্বিক বিপর্যয়ের কারণে তিন হাজারের বেশি বাসিন্দাকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। ওই সময় তদন্ত কমিটি বলেছিল, ‘‘পানি কমে যাওয়া ও ভূ-তাপীয় কূপ নির্মাণের কারণে মাটি দেবে যাচ্ছে।’’

সমস্যা শুধু চীনেই সীমাবদ্ধ নয়। ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত একটি পৃথক সমীক্ষায় বলা হয়েছে, বিশ্বজুড়ে প্রায় ৬.৩ মিলিয়ন বর্গ কিমি (২.৪ মিলিয়ন বর্গ মাইল) ভূমি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ দেশগুলোর মধ্যে ইন্দোনেশিয়া, রাজধানী জাকার্তার বড় অংশ এখন সমুদ্রপৃষ্ঠের নিচে। বিশ্বের অন্যতম সামুদ্রিক সম্পদ সমৃদ্ধ দেশ ফিলিপাইন ঝুঁকিতে রয়েছে।

রবার্ট নিকোলস বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ শহরগুলো টোকিও থেকে শিখতে পারে। যেখানে ১৯৭০ সাল থেকে ভূগর্ভস্থ পানি তোলা নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। কারণ পানি তোলার কারণে সেখানকার শহর প্রায় পাঁচ মিটার (১৬ ফুট) ডুবে যায়।

২০২২ সালে সিঙ্গাপুরের সমীক্ষা অনুসারে, সমস্যায় থাকা ৪৪টি প্রধান উপকূলীয় শহরের মধ্যে ৩০টিই এশিয়ার।

রোড আইল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-পদার্থবিদ্যা বিশেষজ্ঞ ম্যাট ওয়েই বলেন, ‘‘নগরায়ণ ও জনসংখ্যা বৃদ্ধি, বৃহত্তর জনসংখ্যার ঘনত্ব, অধিক পানি নিষ্কাশনের কারণে সঙ্কট বৃদ্ধি পাচ্ছে।’’