বাশার আল-আসাদ এখন সপরিবারে রাশিয়ায়

সিরিয়ার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ ও তার পরিবার রাশিয়ার রাজধানী মস্কোতে পৌঁছেছেন। ক্রেমলিনের সূত্র উল্লেখ করে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাস এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

রবিবার (৮ ডিসেম্বর) ক্রেমলিন সূত্রের বরাত দিয়ে রাশিয়ার সংবাদামাধ্যম আরআইএ নভোস্তি ও তাস জানিয়েছে, আসাদ ও তার পরিবারের সদস্যরা মস্কোতে পৌঁছেছেন। রাশিয়া মানবিক কারণে তাদের আশ্রয় দিয়েছে।

তাসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিরিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করার জন্য জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে রুদ্ধদ্বার বৈঠকের আহ্বান জানিয়েছে রাশিয়া। এদিকে সিরিয়ায় রুশ কূটনৈতিক মিশন ও সামরিক ঘাঁটিগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিতের আশ্বাস দিয়েছেন সিরিয়ার সশস্ত্র বিরোধী গোষ্ঠীর নেতারা।

এদিকে দামেস্কের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর বিদ্রোহীরা জানান, ক্ষমতা হস্তান্তরের পূর্বপর্যন্ত অন্তর্বর্তী দায়িত্বে থাকবেন ক্ষমতাচ্যুত সরকারের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ আল-জালালি।

রবিবার সিরিয়ার হায়াত তাহরির আল-শামের (এইচটিএস) নেতৃত্ব বিদ্রোহীরা দামেস্কের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর আসাদের ২৪ বছরের শাসনের অবসান ঘটে। বিদ্রোহী যোদ্ধাদের অভিযানের মুখে মাত্র ১২ দিনের মাথায় উৎখাত হলেন আসাদ। তার পরিবার ৫৪ বছর সিরিয়া শাসন করেছে।

১৯৭১ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত সিরিয়ায় ক্ষমতায় ছিলেন বাশারের বাবা হাফিজ আল-আসাদ। তার মৃত্যুর পর ক্ষমতা পান বাশার। একসময় মানবাধিকার লঙ্ঘন, বিরোধীদের ওপর কঠোর অত্যাচারসহ নানা অভিযোগের জেরে আসাদের বিরুদ্ধে ২০১১ সালে শুরু হয় বিক্ষোভ। পরে সেই বিক্ষোভ রূপ নেয় রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধে।

সেই গৃহযুদ্ধের ধারাবাহিকতায় গত ২৭ নভেম্বর নতুন করে এইচটিএসের নেতৃত্বে অভিযান শুরু করে বিদ্রোহীরা। শুরুতেই তারা সিরিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর আলেপ্পোর দখল নেয়। এরপর দখল নেয় আরেক গুরুত্বপূর্ণ শহর হামা। এরপর বিদ্রোহীদের হাতে পতন ঘটে সিরিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম শহর হোমস-এর। অবশেষে রবিবার দামেস্কে প্রবেশ করে বিদ্রোহীরা। এর মধ্যেই দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান বাশার আল-আসাদ।