ইতিহাসের সর্বনিম্ন স্তরে ইরানি মুদ্রা, ১ ডলারে পাওয়া যাচ্ছে ৭,৭৭,০০০ রিয়াল

বুধবার ইরানি মুদ্রা রিয়ালের দাম ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। নভেম্বরে ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়লাভ করার পর থেকেই রিয়ালের দামে পতন শুরু হয়। এখন পর্যন্ত ১০% এরও বেশি মূল্য হারিয়েছে, যা তেহরানের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

তেহরানের ব্যবসায়ীরা বলেছেন, ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার দিন ৭,০৩,০০০ রিয়াল ছিল যা আজকে প্রতি ডলারের তুলনায় ৭,৭৭,০০০ রিয়ালে পৌছে গেছে। খবর বার্তা সংস্থা এপির।

মঙ্গলবার রাতে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ড. মোহাম্মদ রেজা ফারজিন বলেন, বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ বৃদ্ধি পাবে এবং বিনিময় হার স্থিতিশীল হবে। তিনি আরও বলেন যে ২২ কোটি ডলারের সমপরিমাণ মুদ্রা বাজারে প্রবেশ করানো হয়েছে।

ইরানে এমন দিনে মুদ্রার মানের পতন ঘটলো যে ক্রমবর্ধমান জ্বালানি সংকটের কারণে বুধবার ইরান স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয় এবং সরকারী অফিস বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়। গ্রীষ্মে ব্ল্যাকআউটের পর এই সংকট দেখা দেয় এবং এখন তীব্র ঠান্ডা, তুষার এবং বায়ু দূষণের কারণে তা আরও বেড়েছে।

ইরানে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল ও গ্যাসের মজুত রয়েছে। কিন্তু বিভিন্ন মৌসুমে যখন জ্বালানির চাহিদা বাড়ে, তখন দেশটি সেই চাহিদা মেটাতে পারে না। বছরের পর বছর ধরে ইরানের জ্বালানি খাতে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ নেই, এর পাশাপাশি তারা পশ্চিমা দেশগুলোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মধ্যে রয়েছে। ফলে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকটে ভুগছে দেশটি।

২০১৫ সালে ইরান যখন বিশ্বের শক্তিধর দেশগুলোর সঙ্গে পারমাণবিক শক্তির ব্যবহার নিয়ে চুক্তি করেছিল, তখন প্রতি ডলারে ৩২,০০০ রিয়াল পাওয়া যেত। এ বছরের ৩০ জুলাই যখন সংস্কারপন্থী প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান শপথ গ্রহণ করেন এবং দায়িত্ব নেন, তখন প্রতি ডলারের দাম দাঁড়ায় ৫ লাখ ৮৪,০০০ রিয়ালে।

মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে এখন যে সংঘাত চলছে তাতে গভীরভাবে জড়িয়ে গেছে ইরান। পুরো অঞ্চল এই সংঘাতে ওলটপালট হয়ে যাচ্ছে। তেহরান যাকে ‘‘অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স’’ বা প্রতিরোধ অক্ষ হিসেবে বর্ণনা করে, সেই মিত্ররা আজ রীতিমতো পর্যুদস্ত হয়ে পড়েছে। এসব সশস্ত্রগোষ্ঠী ও যোদ্ধার মধ্যে রয়েছে ফিলিস্তিনের হামাস, লেবাননের হিজবুল্লাহ এবং ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা।