লস অ্যাঞ্জেলেসে উড়োজাহাজ থেকে ছিটানো এই গোলাপি গুঁড়ার কাজ কী

ভয়াবহ দাবানলে পুড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের লস অ্যাঞ্জেলেস শহর। অনেক চেষ্টার পরও এখনো আগুন নেভাতে পারছেন না অগ্নিনির্বাপণকর্মীরা। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে চলা এই দাবানলের গতি কমার যেন কোনো লক্ষণই নেই। এর মধ্যেই দাবানল এলাকা গোলাপি গুঁড়ায় ঢাকা পড়েছে।

এটি কিসের গুঁড়া? দাবানলে এরই কাজই বা কী তা নিয়ে চলছে ধোঁয়াশা।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানায়, এ ধরনের ‍গুঁড়া অগ্নিপ্রতিরোধক। দাবানলের গতি কমাতে বিশাল এলাকাজুড়ে এই রঙিন গুঁড়া ছিটানো হয়েছে। সেখানকার ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, এখন পর্যন্ত লস অ্যাঞ্জেলেসে এই গোলাপি গুঁড়ার হাজারো গ্যালন বিমান থেকে ছিটানো হয়েছে।

দৃষ্টি আকর্ষণকারী এই উপাদানটির নাম ফস-চেক। পেরিমিটার নামের একটি সংস্থা এটা বিক্রি করে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ১৯৬৩ সাল থেকে এটি যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবহার হয়ে আসছে। ক্যালিফোর্নিয়ার বন ও অগ্নিনিরাপত্তা বিভাগও দীর্ঘদিন ধরে আগুন নেভানোর প্রধান উপাদান হিসেবে এটা ব্যবহার করছে। বার্তা সংস্থা এপি জানায়, বিশ্বে আগুন নেভানোর কাজে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত উপাদানগুলোর মধ্যে একটি হলো এই ফস-চেক।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বেশ কিছু ছবিতে দেখা যায় যে গাড়ি ও রাস্তাঘাটে গোলাপি রঙের গুঁড়ার আস্তর পড়ে আছে। এছাড়াও উৎপাদনকারী সংস্থার পক্ষ থেকে সেখানকার বাসিন্দাদের উদ্দেশে এই গুঁড়া পরিষ্কারের উপায় জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, এই গুঁড়া যত শুকাবে, পুরোপুরি পরিষ্কার করা তত কঠিন হতে পারে। হালকা গরম পানি ও অল্প ডিটারজেন্ট ব্যবহার করে এটা উঠিয়ে ফেলা সম্ভব। আর যদি বেশি পরিমাণে হয় তাহলে পানির উচ্চচাপ ব্যবহার করে পরিষ্কার করতে হবে।

ফস-চেকে রঙের ব্যবহার সম্পর্কে বলতে গিয়ে সংস্থাটি আরও জানায়, এর গোলাপি রং অগ্নিনির্বাপণকর্মী উভয়ের জন্য দৃশ্যমান থাকে। সহজে তারা এটা দেখতে পাবেন। যেসব এলাকায় আগুন লাগার ঝুঁকি রয়েছে, সেখানে আগুন ছড়িয়ে পড়া প্রতিরোধে এটা ব্যবহার করা হয় থাকে।

তবে ফস-চেকের ব্যবহার নিয়ে রয়েছে অনেক বিতর্ক। অনেকের মতে, এটা পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এতে থাকা রাসায়নিক উপাদান তেমন কার্যকর নয়। এই রাসায়নিক উপাদানের সংস্পর্শে মাছ মরে যায়।

তাই যুক্তরাষ্ট্রের বন পরিষেবা জলপথ ও বিপন্ন প্রজাতির আবাসস্থলের মতো সংবেদনশীল এলাকায় আগুন নেভানোর কাজে ব্যবহৃত ফস-চেকের ব্যবহার বাধ্যতামূলকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে যখন মানুষের জীবন কিংবা জননিরাপত্তা হুমকির সম্মুখীন হলে এই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকে না।