ইরানকে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চুক্তিতে আসার আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একইসঙ্গে তিনি আরও জানান, তিনি ইরানকে একের পর এক সুযোগ দিয়েছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।
শুক্রবার (১৩ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প বলেন, “আমি তাদের শক্ত ভাষায় বলেছি যে এটি করো, কিন্তু তারা করেনি।”
তিনি আরও বলেন, “ইতিমধ্যে অনেক প্রাণহানি ও ধ্বংস সাধিত হয়েছে। কিন্তু এই রক্তপাত বন্ধ করার এখনও সময় আছে। কারণ এর পরের হামলাগুলো আরও ভয়াবহ হতে যাচ্ছে।”
আগামী রবিবার ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চুক্তি বিষয়ক ষষ্ঠ দফা আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ওই আলোচনার আগেই এই মন্তব্য করলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট।
ট্রাম্প আরও বলেন, “সব শেষ হয়ে যাওয়ার আগে ইরানকে অবশ্যই চুক্তিতে আসতে হবে। যেটিকে একসময় পারস্য সাম্রাজ্য বলা হতো, সেটিকে রক্ষা করো। আর কোনো মৃত্যু নয়, আর কোনো ধ্বংস নয়, এটি করো, নইলে অনেক দেরি হয়ে যাবে।”
তিনি এও উল্লেখ করেন, ইরানে ইসরায়েল যে হামলা চালিয়েছে, এই হামলার পরিকল্পনার কথা তিনি আগে থেকেই জানতেন। তবে তিনি এটি স্পষ্ট করেছেন, এই অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী কোনোভাবেই অংশ নেয়নি।
এর আগে, তেহরানের পরমাণু স্থাপনায় ইসরায়েলি হামলায় ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) প্রধান হোসেইন সালামি নিহত হয়েছেন বলে জানায় দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। এই হামলায় সালামিসহ আরও কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা নিহত হয়েছেন বলে খবরে বলা হয়।
শুক্রবার (১৩ জুন) ভোররাতে ইরানের রাজধানী তেহরানসহ একাধিক স্থানে হামলা চালায় ইসরায়েল। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরে বলা হয়, তেহরানে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডের (বিপ্লবী গার্ড) সদর দপ্তরে হামলা হয়েছে।
খবরে আরও বলা হয়, ইরানের পরমাণু শক্তি সংস্থার সাবেক প্রধান ফিরেদুন আব্বাসি এবং তেহরানের ইসলামি আজাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি মোহাম্মদ মেহদি তেরাঞ্চি এই হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন।
প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, রাজধানীর একটি আবাসিক এলাকায় হামলায় বেসামরিক নাগরিকের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি শিশুও নিহত হয়েছে।
এদিকে, সংবাদমাধ্যম এএফপির খবরে বলা হয়, হামলার পর ইসরায়েলে পাল্টা হামলা চালাতে প্রায় ১০০টি ড্রোন পাঠায় ইরান। শুক্রবার (১৩ জুন) ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এই তথ্য জানিয়ে বলেছে, তারা এসব ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করতে কাজ করছে।