চীনে স্কুলের খাবার খেয়ে হাসপাতালে ২৩৩ শিশু শিক্ষার্থী

চীনের একটি স্কুলে খাবারযোগ্য নয় এমন রং ব্যবহার করে তৈরি খাবার খেয়ে বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হয়েছে ২৩৩ জন শিশু শিক্ষার্থী। শিশুদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ খবর জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গানসু প্রদেশের তিয়ানশুই শহরের কিন্ডারগার্টেন স্কুলটির ২৩৩ জন শিশু শিক্ষার্থীর রক্ত পরীক্ষা করে উচ্চ মাত্রার সীসা পাওয়া গেছে। কিন্ডারগার্টেন থেকে নেওয়া খাবারের নমুনা পরীক্ষায় জাতীয় নিরাপত্তা সীমার চেয়ে ২,০০০ গুণ বেশি মাত্রার সীসা পাওয়া যাওয়ার পর আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বেসরকারি কিন্ডারগার্টেন স্কুলটিকে অধ্যক্ষ ছাড়াও আরও সাতজন শিক্ষক রয়েছেন। বিষাক্ত ও ক্ষতিকর খাবার দেওয়ার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে।

পুলিশ জানিয়েছে, স্কুলটির অধ্যক্ষ পাচকদের অনলাইন থেকে রং কিনতে বলেছিলেন। শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়ার পর তল্লাশি চালিয়ে লুকিয়ে রাখা রং খুঁজে পাওয়া যায়। যদিও ওই রংয়ের ওপর পরিষ্কার করে লেখা ছিলো “খাওয়ার উপযোগী নয়”।

এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক জানান, তার সন্তানের শরীরে এটি দীর্ঘমেয়াদে কেমন প্রভাব ফেলে তা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন।

আরেকজন অভিভাবকের কাছ থেকে সতর্কতা পেয়ে গত সপ্তাহে লিও নামে একজন অভিভাবক তার সন্তানকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন। তার ছেলের এখন দশ দিন চিকিৎসা নিতে হবে।

চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত্ব সংবাদমাধ্যম স্কুলের রান্নাঘরের সিসিটিভি ভিডিও ফুটেজ প্রচার করেছে। এতে দেখা যাচ্ছে রান্নাঘরে পাচকরা খাবারে রং মাখাচ্ছেন। কতদিন ধরে স্কুলটিতে খাবারে ক্ষতিকর রং মেশানো হচ্ছিল তা এখনও পরিস্কার নয়।

তবে অভিভাবকদের কেউ কেউ রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, গত মার্চ থেকেই তাদের সন্তানরা পাকস্থলী ও পায়ে ব্যথা এবং ক্ষুধামন্দার কথা বলছিল।