Friday, July 10, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

জাতিসংঘ: জরুরি মানবিক সেবা থেকে বঞ্চিত ১০ লাখ নারী

বৈদেশিক সহায়তা কমে যাওয়ায় নারীদের নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো বন্ধ হওয়ার শঙ্কায়

আপডেট : ১০ জুলাই ২০২৬, ০৭:২৯ পিএম

গত বছরের জানুয়ারি থেকে বৈদেশিক সহায়তা কমে যাওয়ার কারণে বিশ্বজুড়ে অন্তত ১০ লাখ নারী ও কিশোরী জরুরি মানবিক সেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

শুক্রবার (১০ জুলাই) এক সতর্কবার্তায় এসব তথ্য জানিয়েছে জাতিসংঘ।

জাতিসংঘের নারীবিষয়ক সংস্থা ‘ইউএন উইমেন’ এক প্রতিবেদনে জানায়, বিশ্বজুড়ে প্রয়োজন দ্রুত বাড়লেও অর্থায়নের অভাবে নারীদের নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার পথে রয়েছে।

গত বছর দায়িত্ব নেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৈদেশিক সহায়তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেন। একইসঙ্গে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দাতা দেশও সহায়তা ব্যয় কমিয়েছে।

ইউএন উইমেনের মানবিক কার্যক্রম বিভাগের প্রধান সোফিয়া কালতোর্প এক বিবৃতিতে বলেন, “বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে থাকা নারী সংগঠনগুলো বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ মানবিক সংকটের সামনের সারিতে কাজ করছে। সংগঠনগুলোর জন্য অর্থায়ন প্রত্যাহার করার মানে সংঘাতজনিত যৌন সহিংসতার শিকার ব্যক্তি, বাস্তুচ্যুত মা, স্কুলছুট হতে বাধ্য হওয়া কিশোরী এবং টিকে থাকার লড়াই করা জনগোষ্ঠীর কাছ থেকে অর্থায়ন সহায়তা প্রত্যাহার করা।’

ইউএন উইমেন জানায়, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্বজুড়ে সশস্ত্র সংঘাত এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে প্রায় ১২ কোটি নারী ও কিশোরীর মানবিক সহায়তা ও সুরক্ষা প্রয়োজন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংকট কবলিত ৫২টি দেশের নারী নেতৃত্বাধীন ও নারীর অধিকারভিত্তিক ৮৫৫টি সংগঠনের মতামতের ভিত্তিতে তৈরি প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ৮৪% সংগঠনের সেবার চাহিদা বেড়েছে। প্রতি ১০টি সংগঠনের প্রায় ৯টিই বর্তমান চাহিদা পূরণ করতে পারছে না। আর জরিপে অংশ নেওয়া প্রতি পাঁচটি সংগঠনের মধ্যে দুটি আগামী এক বছরের মধ্যে সাময়িক বা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছে। 

ইউএন উইমেন জানায়, সংগঠনগুলো টিকিয়ে রাখতে নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি ও কর্মীরা নিজেদের শ্রম ও ব্যক্তিগত প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। নারী নেতৃত্বাধীন ৬৫% সংগঠনে কর্মীরা কোনো পারিশ্রমিক ছাড়াই সেবা চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রায় অর্ধেক সংগঠন জানিয়েছে, কর্মীদের মধ্যে মানসিক ও শারীরিক অবসাদ বাড়ছে।

বিবৃতিতে সতর্ক করে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে সংঘাতজনিত যৌন সহিংসতার ঘটনা দ্বিগুণ হয়েছে। ঠিক সেই সময়ই ভুক্তভোগীদের সুরক্ষার জন্য গড়ে তোলা ব্যবস্থাগুলো ভেঙে পড়ছে। ৮৬% নারী সংগঠন জানিয়েছে, তারা যেসব এলাকায় কাজ করছে সেখানে লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা বেড়েছে। আর সহায়তা কমানোর প্রভাব হয়েছে ভয়াবহ।

তারা বলেছে, সহিংসতা থেকে বাঁচতে একজন নারী হয়তো এমন একটি আশ্রয়কেন্দ্রে পৌঁছাবেন, যা ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। একজন গর্ভবতী নারীকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পৌঁছাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা হাঁটতে হতে পারে। আবার কোনো মাকে তার সন্তানদের জন্য খাদ্য সহায়তাও না-ও দেওয়া হতে পারে।

ইউএন উইমেন আরও বলেছে, এ সহায়তা কমানোর প্রভাব শুধু মানবিক সহায়তা কার্যক্রমকে দুর্বল করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। নারী সংগঠনগুলোর বিলুপ্তি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি এমন এক সময়ে ঘটছে, যখন বিশ্বজুড়ে নারী ও কিশোরীদের অধিকারের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া জোরালো হচ্ছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতি পাঁচটি সংগঠনের একটি ইতোমধ্যে নারীর নেতৃত্ব ও লিঙ্গসমতা এগিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম স্থগিত করেছে। আর অর্ধেকের বেশি সংগঠন জানিয়েছে, স্থানীয় নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীদের অংশগ্রহণ কমে যেতে দেখছে তারা।

   

About

Popular Links

x