Tuesday, July 07, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

কঙ্গোতে ইবোলায় প্রাণহানি ৫০০ ছাড়িয়েছে

দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বর্তমানে ইবোলায় মৃত্যুহার প্রায় ৩২%

আপডেট : ০৭ জুলাই ২০২৬, ০১:৪৫ পিএম

গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে (ডিআর কঙ্গো) ছড়িয়ে পড়া ইবোলা ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়েছে। মে মাসের মাঝামাঝি প্রাদুর্ভাব ঘোষণার পর থেকে দেশটিতে এখন পর্যন্ত ১,৫৬১ জনের ইবোলা সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে। এর মধ্যে ৫০৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার (৬ জুলাই) স্থানীয় সময় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, উগান্ডাতেও ইবোলায় আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে সেখানে পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। দেশটিতে ২০ জনের নিশ্চিত সংক্রমণের মধ্যে ১৬ জন ইতোমধ্যে সুস্থ হয়েছেন।

ডিআর কঙ্গোর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান ইবোলায় মৃত্যুহার প্রায় ৩২%। এছাড়া ২৫৪ জন রোগী সুস্থ হয়ে উঠলেও আরও ৩৫৪ জনের সন্দেহভাজন সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে।

ইবোলার প্রাদুর্ভাব দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ইতুরি প্রদেশকে কেন্দ্র করে ছড়িয়ে পড়েছে। চারটি প্রদেশে সংক্রমণ শনাক্ত হলেও সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ইতুরি। এবারের প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী ইবোলার বিরল বান্ডিবুগিও প্রজাতি, যার বিরুদ্ধে এখনও অনুমোদিত কোনো টিকা বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই।

এ পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য দুটি চিকিৎসা পদ্ধতির কার্যকারিতা যাচাইয়ে ডিআর কঙ্গোতে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু হয়েছে। এতে মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি এমবিপি১৩৪ এবং অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ রেমডেসিভির একক ও যৌথভাবে কতটা কার্যকর, তা পরীক্ষা করা হচ্ছে।

এদিকে, ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রিয়েসুস সতর্ক করে বলেছেন, “পরবর্তী মহামারি বিশ্বের প্রস্তুতির জন্য অপেক্ষা করবে না। কঙ্গোতে চলমান ইবোলার প্রাদুর্ভাব প্রমাণ করছে যে সংক্রামক রোগের হুমকি কখনোই পুরোপুরি শেষ হয় না।”

জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সংস্থা ওসিএইচএ জানিয়েছে, বাস্তুচ্যুত মানুষের শিবিরগুলোতে বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধির ঘাটতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ইতুরির অন্তত চারটি বাস্তুচ্যুত শিবিরে ইবোলার সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে। সেখানে প্রায় দুই লাখ ৭৩ হাজার বাস্তুচ্যুত মানুষ জরুরি সহায়তার অপেক্ষায় রয়েছেন।

তবে অর্থসংকটের কারণে মানবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। চলতি বছরে ডিআর কঙ্গোর জন্য ১৪০ কোটি ডলারের মানবিক সহায়তা তহবিলের বিপরীতে এখন পর্যন্ত পাওয়া গেছে মাত্র ৭৫ কোটি ২০ লাখ ডলার। একইসঙ্গে দক্ষিণ কিভু অঞ্চলে সহিংসতা বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন করে মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে এবং ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনাও কঠিন হয়ে পড়ছে।

   

About

Popular Links

x