ক্যারিয়ারে বিশ্বকাপ জিততে না পারার বিষয়টিকে বড় ব্যর্থতা হিসেবে দেখছেন না ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। পর্তুগিজ এই মহাতারকার মতে, ২০১৬ সালে দেশের হয়ে ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের অর্জনও বিশ্বকাপের মতোই মর্যাদাপূর্ণ।
গত সোমবার স্পেনের বিপক্ষে ১-০ গোলে হেরে এবারের বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে পর্তুগাল। ম্যাচের পর ৪১ বছর বয়সী এই তারকা নিশ্চিত করেন, এটিই ছিল তার ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচ।
ছয়টি বিশ্বকাপে অংশ নিয়েও শিরোপার দেখা পাননি রোনালদো। ফলে আন্তর্জাতিক ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ট্রফিটি জয়ের স্বপ্ন অপূর্ণই থেকে গেল তার। অনেকেই মনে করছেন, এই বাস্তবতা তাকে সর্বকালের সেরা ফুটবলার বিতর্কে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী লিওনেল মেসির তুলনায় পিছিয়ে দেবে, যিনি ২০২২ সালে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জিতিয়েছেন।
তবে রোনালদোর দাবি, বিশ্বকাপ জিততে না পারায় তার ক্যারিয়ার অসম্পূর্ণ থাকছে না। বিদায়ের মুহূর্তে নিজের কোনো আক্ষেপ নেই জানিয়ে তিনি বলেন, “আমি পর্তুগালের হয়ে তিনটি শিরোপা জিতেছি। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর আগে পর্তুগাল জাতীয় দল একটি শিরোপাও জেতেনি। জাতীয় দলের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অর্জন ২০১৬ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ। সত্যি বলতে, আমার কাছে এর গুরুত্ব বিশ্বকাপ শিরোপার সমান।”
ম্যাচ শেষে নিজের আবেগ ধরে রাখতে পারেননি আন্তর্জাতিক ফুটবলের সর্বোচ্চ গোলদাতা। চোখে অশ্রু নিয়ে গ্যালারিতে থাকা পর্তুগিজ সমর্থকদের উদ্দেশে হাত নেড়ে বিদায় জানান তিনি।
তিনি বলেন, “আমি নির্ভার মন নিয়ে বিদায় নিচ্ছি। পর্তুগালের জন্য আমি আমার সর্বোচ্চটা দিয়েছি।”
তবে এটি তার শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচ হলেও এখনই আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে পুরোপুরি অবসরের ঘোষণা দেননি তিনি। ভবিষ্যতের সিদ্ধান্ত নিয়ে রোনালদো জানান, এটিই ছিল তার শেষ বিশ্বকাপ। এখন পরিবারের সঙ্গে কিছু সময় কাটাতে চায়। সবকিছু নিয়ে ভাবার জন্য সময় প্রয়োজন। তাড়াহুড়ো করে কোনো সিদ্ধান্ত নেবেন না।
উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক ফুটবলের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি গোলের মালিক ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো পর্তুগালের জার্সিতে ২৩৩ ম্যাচে রেকর্ড ১৪৬টি গোল করেছেন।



