ফুটবলে জয়-পরাজয় খেলাটিরই অংশ। একটি ম্যাচে হার মানেই সব শেষ নয়। তবে বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে প্রিয় দলের পরাজয় অনেক সমর্থকের মনোজগতে প্রভাব ফেলে। কেউ হতাশ হয়ে পড়েন, কেউ দীর্ঘ সময় ধরে ম্যাচের ফল নিয়েই ভাবতে থাকেন। তবে মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, কিছু সহজ অভ্যাস অনুসরণ করলে এই হতাশা দ্রুত কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দল হেরে গেলে প্রথমেই নিজের অনুভূতিকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করা উচিত। মন খারাপ হওয়া অস্বাভাবিক নয়। তাই আবেগকে দমন না করে নিজেকে কিছুটা সময় দেওয়া প্রয়োজন।
তারা আরও পরামর্শ দেন, ম্যাচের পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে কিছুটা দূরে থাকা ভালো। কারণ ট্রল, ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট ও মিম অনেক সময় হতাশা আরও বাড়িয়ে দেয়। এর বদলে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে সময় কাটানো, বই পড়া বা প্রিয় গান শোনা মানসিক স্বস্তি এনে দিতে পারে।
বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা বা আলোচনা করাও হতাশা কাটাতে সহায়ক হতে পারে। একই দলের সমর্থকদের সঙ্গে অনুভূতি ভাগাভাগি করলে মানসিক চাপ কমে। আর প্রতিপক্ষ দলের সমর্থকদের খুনসুটিকে খেলাধুলার স্বাভাবিক অংশ হিসেবে নেওয়ার পরামর্শও দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
শুধু পরাজয়ের দিকেই নজর না দিয়ে ম্যাচে দলের ইতিবাচক দিকগুলোও মনে রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। ভালো আক্রমণ, দারুণ রক্ষণ, গোলরক্ষকের অসাধারণ সেভ কিংবা শেষ পর্যন্ত লড়াই করার মানসিকতাও ফুটবলের গুরুত্বপূর্ণ অর্জন।
এ ছাড়া সিনেমা দেখা, বই পড়া, রান্না করা, ব্যায়াম করা বা হাঁটতে বের হওয়ার মতো প্রিয় কাজে মনোযোগ দিলে হতাশা অনেকটাই কমে আসে।
বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, একজন প্রকৃত সমর্থক শুধু জয়ের সময় নয়, পরাজয়ের সময়ও নিজের দলের পাশে থাকেন। সামনে নতুন ম্যাচ, নতুন টুর্নামেন্ট ও নতুন সুযোগ অপেক্ষা করছে। তাই একটি হারে ভেঙে না পড়ে খেলাটির আনন্দ উপভোগ করাই একজন সত্যিকারের সমর্থকের পরিচয়।



