বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার আর্লিং হলান্ড শুধু গোল করার দক্ষতার জন্যই নন, কঠোর শৃঙ্খলাপূর্ণ জীবনযাপন ও অসাধারণ ফিটনেসের জন্যও সমানভাবে আলোচিত। আধুনিক ফুটবলে যেখানে অনেক খেলোয়াড় উন্নত প্রযুক্তি ও নানা ধরনের সাপ্লিমেন্টের ওপর নির্ভরশীল, সেখানে হলান্ডের ফিটনেসের মূল ভিত্তি প্রাকৃতিক খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ঘুম এবং কঠোর দৈনন্দিন রুটিন।
হলান্ডের খাদ্যতালিকায় বিশেষ গুরুত্ব পায় গরুর হৃৎপিণ্ড ও কলিজা। পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ এই খাবারে রয়েছে ভিটামিন বি, আয়রন ও বিভিন্ন প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান, যা পেশি গঠন ও শারীরিক সক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক। পাশাপাশি তিনি ঘাস খেয়ে বড় হওয়া গরুর স্টেক, ডিম, সাওয়ারডো রুটি ও খাঁটি মধু খেয়ে থাকেন। প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে যতটা সম্ভব প্রাকৃতিক খাদ্যের ওপরই নির্ভর করেন তিনি।
ঘুমকেও নিজের ফিটনেস পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখেন নরওয়েজিয়ান এই তারকা। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যান এবং ঘুমানোর কয়েক ঘণ্টা আগে থেকে ব্লু-লাইট প্রতিরোধী বিশেষ চশমা ব্যবহার করেন, যাতে কৃত্রিম আলোর প্রভাব কমে। ঘুমের সময় তিনি মুখে সার্জিক্যাল টেপ ব্যবহার করেন, যাতে নাক দিয়ে শ্বাস নেওয়ার অভ্যাস বজায় থাকে। পাশাপাশি ঘুমের মান পর্যবেক্ষণে ব্যবহার করেন বিশেষ স্মার্ট রিং।
প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে কিছু সময় খোলা আকাশের নিচে হাঁটেন এবং প্রাকৃতিক আলো গ্রহণ করেন। সূর্যের আলো না থাকলে রেড লাইট থেরাপির সহায়তা নেন, যা শরীরের জৈবিক ছন্দ ঠিক রাখতে সহায়ক বলে মনে করেন।
অনুশীলনের বাইরে শরীর দ্রুত পুনরুদ্ধারের জন্য সপ্তাহে চার থেকে পাঁচ দিন বরফ-ঠান্ডা পানিতে ডুব এবং সনা বাথ নেন হলান্ড। এই পদ্ধতি পেশির ক্লান্তি কমাতে ও রক্তসঞ্চালন স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে বলে মনে করা হয়। এছাড়া প্রতিদিন নিয়মিত স্ট্রেচিং এবং নমনীয়তা বৃদ্ধির ব্যায়ামও তার রুটিনের অংশ।
কঠোর শৃঙ্খলা, প্রাকৃতিক জীবনযাপন এবং নিয়ম মেনে চলার অভ্যাসই আর্লিং হলান্ডকে বর্তমান ফুটবলের অন্যতম ফিট ও ধারাবাহিক পারফর্মার হিসেবে গড়ে তুলেছে। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা মনে করিয়ে দেন, তার অনুসরণ করা কিছু অভ্যাস, যেমন মুখে টেপ লাগিয়ে ঘুমানো বা নির্দিষ্ট ধরনের খাদ্যাভ্যাস, সব মানুষের জন্য উপযুক্ত নাও হতে পারে। তাই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়া এসব পদ্ধতি অনুসরণ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়।



