নতুন কারও সঙ্গে সম্পর্কে জড়ানোর আগে তার পছন্দ-অপছন্দ, স্বভাব কিংবা জীবনযাপনের ধরন জানার চেষ্টা করেন অনেকেই। কিন্তু মানুষটি তার প্রাক্তনকে নিয়ে কী ভাবেন, পুরোনো সম্পর্কের কথা উঠলে তার প্রতিক্রিয়াই বা কেমন হয়, সেদিকে কি খেয়াল করেছেন? ডেটিংয়ের নতুন ট্রেন্ড ‘এক্স টেস্ট’ বলছে, প্রাক্তনকে নিয়ে কারও কথাবার্তা ও আচরণ থেকে তার সম্পর্কের দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে কিছুটা ধারণা পাওয়া যেতে পারে।
কী এই ‘এক্স টেস্ট’?
ডেটিং অ্যাপ কোয়্যাককোয়্যাক (QuackQuack) সম্প্রতি ২০ থেকে ৩৫ বছর বয়সী ১১ হাজারের বেশি ব্যবহারকারীর ওপর একটি সমীক্ষা করেছে। সমীক্ষার ফলাফল অনুযায়ী, সম্পর্কে শুধু দুজনের মধ্যে আকর্ষণ বা বোঝাপড়া থাকাই যথেষ্ট নয়; সম্ভাব্য সঙ্গীর মানসিক পরিণতিও অনেকের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। আর তা বোঝার একটি উপায় হতে পারে, তিনি তার আগের সম্পর্ক নিয়ে কীভাবে কথা বলেন।
‘এক্স টেস্ট’ মূলত এ ধারণার ওপর ভিত্তি করে তৈরি। নতুন পরিচয়ের শুরুতে কথার ফাঁকে প্রাক্তন সঙ্গীর প্রসঙ্গ উঠলে মনোযোগ দিয়ে লক্ষ করতে হবে, মানুষটি কী বলছেন এবং কীভাবে বলছেন। তবে এটি কোনো বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা নয়; বরং কারও অতীত সম্পর্ক নিয়ে কথা বলার ধরন থেকে তার দৃষ্টিভঙ্গি বোঝার একটি চেষ্টা।
যেভাবে করবেন ‘এক্স টেস্ট’
বিষয়টা খুব সহজ। প্রথম দিকের দেখাশোনা বা আড্ডায় একটু কায়দা করে প্রাক্তনের প্রসঙ্গটা তুলুন। তারপর আর কিছু নয়, শুধু তার কথাগুলো শুনুন আর খেয়াল করুন কিছু ছোট ছোট বিষয়:
- সম্পর্কটা ভাঙল কেন? মানুষটা কি নিজের কোনও ভুল স্বীকার করছে? নাকি সব দোষ অবলীলায় প্রাক্তনের ঘাড়ে চাপাচ্ছে?
- ওই ভেঙে যাওয়া সম্পর্ক থেকে সে কি সত্যিই কিছু শিখেছে? নাকি প্রাক্তনের নামে শুধুই নালিশের ঝুলি খুলে বসেছে?
- প্রাক্তনের নাম উঠতেই কি তার গলায় একরাশ ঝাঁঝ বা চোখে রাগ ফুটে উঠছে?
‘ইমোশনাল ডিউ ডিলিজেন্স’ কেন গুরুত্বপূর্ণ
প্রাক্তনের পরিচয় বা তার ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত জানা ‘এক্স টেস্ট’-এর মূল উদ্দেশ্য নয়। বরং আগের সম্পর্ক থেকে মানুষটি কী শিখেছেন এবং এখন সম্পর্ককে কীভাবে দেখেন, সেটি বোঝার চেষ্টা করা হয়। এই ধারণাকেই বলা হচ্ছে ‘ইমোশনাল ডিউ ডিলিজেন্স’। সহজভাবে বললে, নতুন সম্পর্কে জড়ানোর আগে সম্ভাব্য সঙ্গীর আবেগ, দৃষ্টিভঙ্গি ও সম্পর্কের অভ্যাস সম্পর্কে ধারণা নেওয়া।
ডেটিং প্রোফাইলে নিজের পছন্দ, শখ ও ভালো দিকগুলো তুলে ধরা সহজ। প্রথম দেখায় মানুষ সাধারণত নিজের ইতিবাচক দিকগুলোই সামনে আনতে চান। কিন্তু অতীতের সম্পর্ক নিয়ে খোলামেলা আলোচনায় তার দৃষ্টিভঙ্গির কিছু দিক সামনে আসতে পারে।
তবে প্রাক্তনকে নিয়ে কেউ কী বলছেন, তার ভিত্তিতে ভবিষ্যৎ সম্পর্ক সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। একটি সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পেছনে নানা কারণ থাকতে পারে। কেউ নিজের অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলতে না চাইলে সেটিকেও সরাসরি নেতিবাচক লক্ষণ হিসেবে দেখা উচিত নয়।
‘এক্স টেস্ট’ করলেই কি সব বোঝা যায়?
এক্স টেস্ট’ করলেই কি সব বোঝা যায়? প্রাক্তনের প্রসঙ্গ তুলে কারও প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করা গেলেও, সেটি দিয়ে তার মানসিক পরিণতি বা ভবিষ্যৎ আচরণ পুরোপুরি বিচার করা সম্ভব নয়। বরং তিনি নিজের ভুল স্বীকার করতে পারেন কি না, মতপার্থক্য কীভাবে সামলান, অন্যের প্রতি সম্মান দেখান কি না এবং সম্পর্ক নিয়ে কতটা দায়িত্বশীল - এসব বিষয় সময় নিয়ে বোঝা জরুরি।
তাই পরের বার ডেটে গেলে কৌতূহলবশত প্রাক্তনের প্রসঙ্গ তুলতেই পারেন। তবে কথোপকথন যেন জেরা বা কাউকে ফাঁদে ফেলার কৌশল হয়ে না ওঠে। মানুষটিকে বোঝা-ই মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত, তার অতীতের বিচার করা নয়। নতুন সম্পর্কের ভিত্তি শুধু পুরোনো কাহিনীর ওপর গড়ে ওঠে না; বরং বর্তমানের আচরণ, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও যোগাযোগই এর ভিত্তি।
বিশেষজ্ঞের মতে, আজকের দিনে মানুষ শুধু আবেগ দিয়ে নয়, বরং বাস্তবতার নিরিখে সম্পর্ককে বিচার করতে পছন্দ করেন তাই পরের বার ডেটে গেলে, কফির কাপে চুমুক দিতে দিতে আলতো করে একটু প্রাক্তনের খোঁজ নিয়ে দেখাই যায়। উত্তরটা শুনলেই মানুষটার মনের অনেক গভীরের খবর পরিষ্কার হয়ে যাবে।