বয়সের তুলনায় দ্রুত বৃদ্ধ হয়ে যাচ্ছেন? দেখুন এই লক্ষণগুলো

কাগজে-কলমে কারো বয়স ৩০, ৪০ কিংবা ৫০ বছর হতে পারে। কিন্তু শরীরের ভেতরের গঠন ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গ কি আদতে সেই বয়সের সঙ্গে তাল মেলাতে পারছে? চিকিৎসাবিজ্ঞানে জন্মগত বয়সের চেয়ে ‘বায়োলজিক্যাল এজ’ বা জৈবিক বয়সকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়। শরীরের কোষ, টিস্যু ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গ কতটা কর্মক্ষম, তার ওপরই নির্ভর করে এই জৈবিক বয়স। জীবনযাত্রার নানাবিধ ভুলের কারণে অনেক সময় নির্ধারিত বয়সের আগেই শরীর দ্রুত বুড়িয়ে যেতে শুরু করে। সম্প্রতি স্বাস্থ্য সাময়িকী দ্য হেলদি-র প্রতিবেদনে এমন আটটি লক্ষণের কথা তুলে ধরা হয়েছে, যা দেখে বোঝা সম্ভব আপনার শরীর দ্রুত বুড়িয়ে যাচ্ছে কি না।

১. হাতের গ্রিপ বা আঁকড়ে ধরার শক্তি কমে যাওয়া:
হ্যান্ড গ্রিপ স্ট্রেন্থ বা হাতের আঁকড়ে ধরার শক্তি কমতে থাকা সুস্থভাবে বয়স বাড়ার ক্ষেত্রে একটি নেতিবাচক সূচক। সহজে বোতল বা বয়ামের ঢাকনা খুলতে কষ্ট হওয়া কিংবা ভারী জিনিস বহন করতে না পারা হাত ও কনুইয়ের পেশি দুর্বল হওয়ার ইঙ্গিত দেয়। হাত ও আঙুলের পেশি শক্ত রাখতে নিয়মিত ব্যায়াম এবং স্পঞ্জ বল ব্যবহারের পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

২. সিঁড়ি ভাঙতে কষ্ট হওয়া:
সিঁড়ি বেয়ে ওঠা-নামা করার সময় শরীরের পেশির শক্তি, ভারসাম্য এবং কার্ডিওভাসকুলার ফিটনেসের পরীক্ষা হয়। বয়সের সঙ্গে পেশির ভর কমে যাওয়াকে বিজ্ঞানের ভাষায় ‘সারকোপেনিয়া’ বলা হয়। সারকোপেনিয়া শুরু হলে স্বাভাবিকভাবে সিঁড়ি ডিঙানো বেশ কঠিন হয়ে পড়ে।

৩. হাঁটার গতি ধীর হয়ে যাওয়া:
একজন মানুষের হাঁটার গতি তাঁর পায়ের পেশি ও স্নায়ুর সার্বিক কার্যকারিতার পরিচয় দেয়। তুলনামূলক দ্রুত ও স্বাচ্ছন্দ্যে হাঁটতে পারা উন্নত শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার নির্দেশক। হাঁটার গতি স্বাভাবিকের চেয়ে কমে যাওয়া বয়সের দ্রুত বৃদ্ধির লক্ষণ হতে পারে।

৪. ভারসাম্যের অভাব ও বার বার হাতল ধরা:
হাঁটাচলা কিংবা সিঁড়ি ব্যবহারের সময় হাতল বা রেলিং আঁকড়ে ধরার তীব্র প্রবণতা নির্দেশ করে যে শরীরে পেশির শক্তি ও স্নায়ু-পেশির সমন্বয় কমে আসছে। এটি শারীরিক সক্ষমতা দ্রুত কমে যাওয়ার একটি বড় লক্ষণ।

৫. বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়া:
যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, রাতে বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়া ‘বয়স্ক ঘুমের’ লক্ষণ। কেবল ঘুমের স্থায়িত্ব নয়, ঘুমের মান সুস্থতার জন্য জরুরি। নিয়মিত একই সময়ে ঘুমানো এবং রাতে ক্যাফেইন ও ভারী খাবার এড়িয়ে চলা এ সমস্যা দূর করতে পারে।

৬. শরীরের গঠন ও পোশাকের ফিট বদলে যাওয়া:
ওজন অপরিবর্তিত থাকলেও যদি কোমরের পোশাক টাইট মনে হয় এবং শরীরের অন্যত্র ঢিলেঢালা লাগে, তবে তা পেশি কমে পেটে চর্বি জমার সংকেত। এই পরিবর্তন হৃদ্রোগ ও টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি আশঙ্কাজনকভাবে বাড়িয়ে দেয়।

৭. সামান্য আঘাতে কালশিটে পড়া:
সামান্য আঘাতেই ত্বকে কালশিটে পড়া ত্বকের দ্রুত বয়স বাড়ার লক্ষণ হতে পারে। দীর্ঘদিন সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মির প্রভাবে ত্বক পাতলা ও দুর্বল হয়ে পড়লে ভেতরের রক্তনালিগুলো ভঙ্গুর হয়ে যায়। এটি রোধে নিয়মিত সানস্ক্রিন ব্যবহার আবশ্যক।

৮. ত্বকে অকালে বয়সের ছাপ:
প্রত্যাশিত সময়ের আগেই মুখে বলিরেখা, ত্বক কুঁচকে যাওয়া বা কালচে দাগ দেখা দেওয়া ত্বকের বার্ধক্য ত্বরান্বিত হওয়ার লক্ষণ। ধূমপান, বায়ুদূষণ, অতিরিক্ত মানসিক চাপ ও অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস এর মূল কারণ। পুষ্টিকর খাদ্যগ্রহণ ও ধূমপান ত্যাগের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া ধীর করা সম্ভব।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই লক্ষণগুলো দেখা দিলে আতঙ্কিত না হয়ে জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন, সুষম খাদ্যগ্রহণ এবং নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রমের মাধ্যমে বায়োলজিক্যাল বয়সের এই দ্রুত বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।