ত্বকের যত্নে আমরা কত কিছুই না করি! কখনো নতুন প্রসাধনী বা ঘরোয়া উপকরণ ব্যবহার করি, কখনো আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা কোনো রূপচর্চার কৌশল অনুসরণ করি। আজকাল জে বিউটি বা জাপানি কায়দায় রূপচর্চা ও ত্বকের যত্ন নেওয়ার ট্রেন্ড বেশ জনপ্রিয়। আর সেই দেশে রূপচর্চায় যে সুলভ উপকরণটি ব্যবহৃত হয়, তা হলো রাইস ওয়াটার। ত্বকের যত্নে এই উপকরণ কতটা উপকারী, আর কীভাবেই বা ব্যবহার করবেন এটি?
ত্বকের যত্নে কেন ব্যবহার করা হয় রাইস ওয়াটার
ফেমিনা ডটইনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাপানে নারীদের ত্বকের পরিচর্যায় চালের ব্যবহার বেশ পুরোনো। চালের নির্যাস, পেস্ট ও চাল ধোয়া পানি বিভিন্নভাবে ব্যবহার করা হয়। চাল থেকে পাওয়া কিছু উপাদান ত্বকের পরিচর্যায় কাজে লাগতে পারে। এ কারণে বর্তমানে বিভিন্ন প্রসাধনী তৈরিতেও চালের নির্যাস ব্যবহার করা হয়।
রাইস ওয়াটার ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে এবং ত্বককে কোমল ও মসৃণ রাখতে সহায়তা করতে পারে। নিয়মিত ত্বকের পরিচর্যার অংশ হিসেবে এটি ব্যবহার করলে শুষ্কতা কমাতে কিছুটা উপকার পাওয়া যেতে পারে। অনেকে প্রাকৃতিক টোনার হিসেবেও রাইস ওয়াটার ব্যবহার করেন। তবে ঘরে তৈরি চাল ধোয়া পানির কার্যকারিতা নিয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন। এটি ব্যবহার করলেই ত্বক উজ্জ্বল হবে কিংবা ত্বকের সব সমস্যা দূর হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।
গবেষণায় দেখা গেছে, বিভিন্ন ত্বকের সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে প্রতিদিন রাইস ওয়াটার দিয়ে গোসল করা শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এমনকি স্পর্শকাতর ত্বকের জন্যও রাইস ওয়াটার অত্যন্ত কার্যকর। এটি ব্রনের সমস্যাও দূর করে। রাইস ওয়াটারে আছে ভিটামিন এ, সি ও ই, ফেরুলিক অ্যাসিড, ফ্ল্যাভনয়েড ও ফেনোলিক কম্পাউন্ড, যা ত্বকের অকাল বার্ধক্য রোধ করতেও ভূমিকা রাখে।
তবে, স্পর্শকাতর ত্বকের জন্য এটি সব সময় নিরাপদ, এমনটিও বলা যায় না। তাই ত্বকের ধরন বুঝে এবং সতর্কতার সঙ্গে এটি ব্যবহার করা উচিত।
যেভাবে ব্যবহার করবেন রাইস ওয়াটার
টোনার হিসেবে
ত্বকের পরিচর্যায় টোনার হিসেবে রাইস ওয়াটার ব্যবহার করতে পারেন। এজন্য পরিষ্কার চাল ধোয়া পানি একটি পাত্রে নিয়ে ঠান্ডা করে নিন। এরপর তুলার সাহায্যে অল্প পরিমাণ পানি মুখে লাগাতে পারেন। চাইলে চালের গুঁড়া ও পানির পাতলা মিশ্রণও ব্যবহার করা যায়। তবে চালের গুঁড়া মেশালে সেটি যেন ত্বকে ঘষাঘষি বা অস্বস্তির কারণ না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
রাইস ওয়াটারের সঙ্গে সামান্য গোলাপজল মিশিয়ে টোনার হিসেবে ব্যবহার করা যায়। তবে একসঙ্গে একাধিক উপাদান ব্যবহার করলে ত্বকে জ্বালাপোড়া বা অ্যালার্জি হলে কোন উপাদানটি দায়ী, তা বোঝা কঠিন হয়ে যায়। তাই প্রথমবার ব্যবহারের সময় একটি উপাদান দিয়েই শুরু করা ভালো।
ক্লিনজার হিসেবে ব্যবহার
ত্বক পরিষ্কার রাখতে রাইস ওয়াটার ব্যবহার করতে পারেন। এজন্য পরিষ্কার চাল ধোয়া পানি ঠান্ডা করে মুখে লাগিয়ে কয়েক মিনিট অপেক্ষা করুন। এরপর পরিষ্কার পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। তবে রাইস ওয়াটার মুখের ময়লা, অতিরিক্ত তেল ও প্রসাধনীর অবশিষ্টাংশ দূর করতে ক্লিনজারের বিকল্প নয়। মুখ ভালোভাবে পরিষ্কার করতে ত্বকের ধরন অনুযায়ী মৃদু ক্লিনজার ব্যবহার করাই ভালো।
রাইস ওয়াটার ঠান্ডা করে মুখে লাগিয়ে ১০ থেকে ১৫ মিনিট পর ধুয়ে ফেলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে অতিরিক্ত ঠান্ডা পানি বা সরাসরি বরফ ত্বকে ব্যবহার না করাই ভালো। রাইস ওয়াটার ব্যবহারের পর ত্বকে টান লাগলে বা শুষ্ক মনে হলে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন।
সিরাম হিসেবে ব্যবহার
রাইস ওয়াটারের সঙ্গে অ্যালোভেরা জেল ও ভিটামিন ই ক্যাপসুলের তেল মিশিয়ে সিরাম তৈরি করা যায়। এরপর একটি বোতলে নিয়ে তা ভালো করে ঝাঁকিয়ে নিন। এরপর মুখে প্রয়োগ করুন। এটি ত্বকের নমনীয়তা ও কোমলভাব ফিরিয়ে আনতে সক্ষম। তবে এটা দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করে ব্যবহার না করাই ভালো। দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করলে জীবাণু জন্মানোর আশঙ্কা থাকে।
বিশেষ করে তৈলাক্ত ও ব্রণপ্রবণ ত্বকে অতিরিক্ত তেলযুক্ত উপাদান ব্যবহার করলে সমস্যা বাড়তে পারে। নতুন কোনো উপাদান মুখে ব্যবহারের আগে পরীক্ষা করে নেওয়া ভালো। জ্বালাপোড়া, চুলকানি বা লালচে ভাব দেখা দিলে ব্যবহার বন্ধ করুন।
ব্যবহারের আগে যেসব বিষয়ে খেয়াল রাখবেন
রাইস ওয়াটার ব্যবহার করতে চাইলে পরিষ্কার পানি ও পরিষ্কার পাত্র ব্যবহার করুন। সম্ভব হলে প্রতিবার অল্প পরিমাণে তৈরি করে নিন। দীর্ঘ সময় ঘরের তাপমাত্রায় রেখে দেওয়া বা দুর্গন্ধযুক্ত, রং পরিবর্তন হওয়া কিংবা ফেনা জমা পানি ত্বকে ব্যবহার করবেন না।
ত্বকের যত্নে রাইস ওয়াটার একটি ঘরোয়া উপাদান হতে পারে, তবে এটি কোনো চিকিৎসার বিকল্প নয়। ব্রণ, অতিরিক্ত শুষ্কতা বা ত্বকের অন্য কোনো সমস্যা দীর্ঘদিন থাকলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। আর সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে ত্বককে সুরক্ষিত রাখতে রাইস ওয়াটারের ওপর নির্ভর না করে উপযুক্ত সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে।



