পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্যের যোগদান

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহা. শামীম যোগদান করেছেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সপ্তম উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন। 

শনিবার (১৬ মে) সকালে ক্যাম্পাসে পৌঁছালে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নজরুল ইসলাম ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. শামীম নবনিযুক্ত উপাচার্যকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। এরপর উপাচার্য কার্যালয়ে প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে তিনি যোগদান করেন। 

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) স্কুল অব এগ্রিকালচাল অ্যান্ড রুরাল ডেভেলপমেন্ট (এসএআরডি) এর মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও কোষাধ্যক্ষ ড. আবুল হাসনাত মোহা. শামীমকে পাবনা বিজ্ঞান  ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে চার বছরের জন্য নিয়োগ দেন। 

দুপুরে উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, হল প্রভোস্ট, গবেষণা সেলের পরিচালক, রেজিস্ট্রার ও দপ্তর প্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেন। 

মতবিনিময় সভায় উপাচার্য ড. আবুল হাসনাত মোহা. শামীম বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়কে সুশিক্ষা, গবেষণা ও সমাজসেবার হাব হিসেবে গড়ে তোলা হবে। যুগের সাথে মিল রেখে চাহিদা সম্পন্ন বিভাগ খোলা হবে। শিক্ষার্থীদেরকে সামাজিক দায়বদ্ধতার সংস্কৃতিতে উৎসাহিত করা হবে। তাদেরকে নৈতিক মূল্যবোধের শিক্ষা দেওয়া হবে। সর্বত্র স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতার সংস্কৃতি গড়ে তোলা হবে। সবাইকে সচ্ছতার সাথে দায়িত্ব পালন করতে হবে।” 

শিক্ষার মান বাড়াতে গবেষণাধর্মী বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তোলা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, “বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় সবুজ ক্যাম্পাস হিসেবে গড়ে তোলা হবে। শিক্ষক-শিক্ষার্থী- কর্মকর্তা-কর্মচারী সর্বোপরি পাবনাবাসীর সহায়তায় বিশ্ববিদ্যালয়কে গড়ে তোলা হবে। গতানুগতিকার বাইরে নতুন প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে উঠবে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।’  

এ সময়  উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নজরুল ইসলাম  ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. শামীম আহসান উপস্থিত ছিলেন। 

উল্লেখ্য, অধ্যাপক ড. আবুল হাসান মোহা. শামীম ১৯৭৬ সালের ১৫ জুলাই চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলায় জম্মগ্রহণ করেন। মনাকষা হুমায়ুন রেজা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৯১ সালে এসএসসি এবং ১৯৯৩ সালে রাজশাহী কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ১৯৯৭ সালে স্নাতক সম্মান ও ১৯৯৮ সালে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। উভয় পরীক্ষায় তিনি প্রথম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র জীবন শেষ করে তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের অধীনে দেশি-বিদেশি প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত হন। তিনি শিক্ষা কমিশন-২০০৩ এর গবেষণা সহকারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২০০৫ সালে বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি ও পল্লী উন্নয়ন অনুষদের প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন।

সর্বশেষ তিনি উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি বাউবির কৃষি ও পল্লী উন্নয়ন অনুষদের ডিন এর দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ২০১০ সালে  জাপানের ওকাইয়ামা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পরিবেশ বিজ্ঞানে পিএইচডি ডিগ্রী অর্জন করেন। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন জার্নাল ও পুস্তকে তার ৪০টির অধিক গবেষণামূলক প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। বর্তমানে ভেষজ উদ্ভদ ও মাটির স্ট্রেপটোমাইটিস প্রজাতি থেকে নতুন অ্যান্টিবায়োটিক এবং কীটনাশক অনুসন্ধান নিয়ে গবেষণা করছেন। তার রচিত একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির কৃষি শিক্ষা প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র বই দেশের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি কলেজে পড়ানো হচ্ছে। তিনি  বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নের সঙ্গে জড়িত। নিজ গ্রামে একটি লাইব্রেরি স্থাপন করেছেন। বিভিন্ন সংবাদপত্রে তিনি নিয়মিত কলামও লেখেন।