Thursday, June 04, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান

বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১ বিভাগের ২১৫ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে এই বৃত্তি প্রদান করা হয়

আপডেট : ৩০ জুন ২০২৫, ০৭:০১ পিএম

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) মেধাবী ও অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৃত্তি প্রদান করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১ বিভাগের ২১৫ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে এই বৃত্তি প্রদান করা হয়।

সোমবার (৩০ জুন) বৃত্তি প্রদান উপলক্ষে কনভেনশন হলে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুল-আওয়াল। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. নজরুল ইসলাম ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যপক ড. মো. শামীম আহসান।

এদিকে একই অনুষ্ঠানে অনুমোদনকৃত ১০টি গবেষণা উদ্ভাবন প্রজেক্টের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী এবং ব্যক্তিগত উদ্ভাবনের জন্য ৫ জন শিক্ষার্থীকে পুরস্কৃত করা হয়। অনুষ্ঠানস্থলে গবেষণা উদ্ভাবন প্রজেক্টসমূহ উপস্থাপন করা হয়। ছাত্র উপদেষ্টা দপ্তর এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

ছাত্র উপদেষ্টা দপ্তরের পরিচালক ড. মো. রাশেদুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুল-আওয়াল বলেন, “জুলাই আন্দোলনের পর উৎপাদনমুখী, তারুণ্যমুখী বাংলাদেশের স্বপ্নপূরণে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক উন্নয়নে মেধাবী ও অস্বচ্ছল মেধাবীদের মাঝে বৃত্তি প্রদান করছি। আমরা মেধাবীদের জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরার কাজ করছি। এই বৃত্তি একাডেমিক এক্সিলেন্স বাড়াতে, গবেষণা বাড়াতে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করবে। শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার জন্য এই বৃত্তি বড় রকমের সহযোগিতা করবে।”

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, “ভবিষতে প্রতিযোগিতামূলক প্রজেক্ট পাস করা হবে। সেখানে শিক্ষার্থীরা বেতন পাবেন। গবেষণা বাড়াতে বিভিন্ন সেল করা হয়েছে। এগুলো পুরোদমে চালু হলে শিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্র বৃদ্ধি পাবে, আরও বেশি সংখ্যক শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দেওয়া সম্ভব হবে।”

তিনি আরও বলেন, “দেশের সম্পদ সীমিত। সীমিত সম্পদের মধ্যে বৃত্তির আয়োজন করা হয়েছে। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশিরভাগ শিক্ষার্থী মধ্যবিত্ত। নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যে তাদেকে চলতে হয়। মধ্যবিত্তরা জাতির প্রতিনিধিত্ব করেন। জুলাই বিপ্লব করেছে এদেশের মধ্যবিত্ত এবং তাদের সন্তানেরা। তাদের অবদান সবচেয়ে বেশি। সীমিত সম্পদের মধ্যে ব্যবহার করে তোমাদেরকে সামনে আগাতে হবে। শিক্ষার্থীদের হাত ধরে এই বিশ্ববিদ্যালয় একদিন সারাবিশ্বে পরিচিত হবে। আমি সেই লক্ষে প্যারামিটারের বীজ বপন করে যাচ্ছি।”

বক্তব্যের শুরুতে উপাচার্য জুলাই আন্দোলনে শহিদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন।

উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. নজরুল ইসলাম বলেন, “আজকের দিনটা গর্বের। এত শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দিতে পারায় আমরা গর্ববোধ করছি। টাকার অংকে বৃত্তি বড় না হলেও ভবিষ্যতের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে বড়। এই কৃতিত্বকে এগিয়ে নেওয়া তোমাদের দায়িত্ব। তোমরা মনে রাখবে একদিন তোমরা সফল হবেই। তোমরা সফল হলেই শিক্ষক হিসেবে আমরা সফল হব।”

কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. শামীম আহসান বলেন, “কঠোর পরিশ্রম ও মেধার স্বীকৃতি এই বৃত্তি। ভবিষ্যতের জন্য উৎসাহ, অনুপ্রেরণামূলক হিসেবে এটা কাজ করবে। এই বৃত্তি শিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে আরও দায়িত্বশীর করে তুলবে বলে আমি বিশ্বাস করি।”

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন প্রক্টর অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামান খান, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. ফজলুল হক, মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. মীর খালেদ ইকবাল চৌধুরী ও জীব ও ভূ-বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম এবং শিক্ষার্থী সুজিত কুমার রায় ও সাগর মিয়া। অনুষ্ঠানে বৃত্তিপ্রাপ্তদের হাতে চেক তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে অনুমোদনকৃত ১০টি গবেষণা উদ্ভাবন প্রজেক্টসমূহের জন্য শিক্ষার্থী আবু মোহাম্মদ নুর, মো. রতন আহমেদ, মো.আরিফ হোসাইন, মো. হাফিজুল ইসলাম, ফাতেমা খাতুন, মো. তানভীর ইসলাম চৌধুরী, মো. সাগর মিয়া, মো. শাহাদত হোসাইন ভুইয়া, ইফতেখার শাকিরুল, নায়েসা ইয়াসমিন এ্যামি, আফরিনা শাহরিন শোভা, শাদ শাহরিয়ার ও মোছা. তামান্না ইয়াসমিনকে পুরস্কৃত করা হয়। এছাড়া নিজস্ব উদ্ভাবনের জন্য এলইডি ষ্ট্যাম্পের জন্য তানভীর চৌধুরী ও তার টিম, ডিজিটাল স্কোরবোর্ডের জন্য আবির ও তার টিম, ক্যাফেটেরিয়া ডিজাইনের জন্য আব্দুল আল মামুন, সাদিয়া আফরিন, সৌরভ হুসাইন, ক্যালেন্ডার ডিজাইনের জন্য মো. তৈয়বুর রহমান ও ঘাস কাটার মেশিনের জন্য নাজমুস সাকিবকে পুরস্কৃত করা হয়।

   

About

Popular Links

x