বিশ্ব শিশু দিবস ও শিশু অধিকার সপ্তাহ- ২০২৩ : শিশুদের জন্য  ‘খেলার জগৎ’

“শিশুর জন্য বিনিয়োগ করি, ভবিষ্যতের বিশ্ব গড়ি”- প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে গত ২ অক্টোবর বিশ্ব শিশু দিবস ও শিশু অধিকার সপ্তাহ-২০২৩ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়েছে।

বাংলাদেশ শিশু একাডেমি মিলনায়তনে এ উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব এডুকেশনাল ডেভেলপমেন্ট (ব্র্যাক আইইডি), ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশ ইসিডি নেটওয়ার্ক যৌথভাবে শিশুদের জন্য “খেলার জগৎ” কার্যক্রম নিয়ে সপ্তাহজুড়ে কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়।

ব্র্যাক আইইডির “খেলার জগৎ” কার্যক্রমটি শিশুদের জন্য যেমন আনন্দদায়ক তেমনি তাদের সৃজনশীলতা বিকাশে সহায়ক। এই “খেলার জগৎ”-কে ঘিরে শিশুদের জন্য ছিল গল্পের ভুবন, স্বপ্নের ভুবন, রঙের ভুবন,  বাইরের ভুবন এবং মজা করে গাছ লাগানো।

এখানে শিশুরা নিজের ইচ্ছেমতো খেলার পাশাপাশি ছবি আঁকা,  রং করা, গল্পের বই পড়া, পুরনো ও সহজলভ্য জিনিস দিয়ে খেলনা বানানোর মাধ্যম অংশগ্রহণ করে। এসব কার্যক্রম শিশুদের প্রারম্ভিক শৈশব ও মানসিক স্বাস্থ্যের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ।

বিশ্ব শিশু দিবস ও শিশু অধিকার সপ্তাহের নানা কর্মসূচি/সৌজন্য ছবি

অনুষ্ঠানটি উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।

উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, “শিশুরাই জাতির প্রাণ এবং জাতি গঠনের মূল ভিত্তি। আজকের শিশু আগামী দিনের কর্ণধার এবং তারাই আগামী বিশ্ব পরিচালনায় নেতৃত্ব দিবে। তাই শিশুদের কল্যাণ ও অধিকার সুরক্ষার জন্য শৈশবকাল থেকে শিশুকে সুষ্ঠভাবে গড়ে তোলার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপগুলো নিতে হবে।”

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা  বলেন, “শিশুদের বিনোদনের মাধ্যমে লেখাপড়ার প্রতি আগ্রহ তৈরি করতে হবে। তাই বাংলাদেশ শিশু একাডেমি শিশুদের জন্যে আউটরিচ স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছে যেনো শিশুরা খেলাধুলা, চিত্রাংকন, কুইজ এবং নানা ধরনের বিনোদনের মাধ্যমে লেখাপড়ায় আগ্রহী হতে পারে।”

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ইউনিসেফ প্রতিনিধি এমা ব্রিহাম, বাংলাদেশ শিশু একাডেমির চেয়ারম্যান লাকী ইনাম এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব নাজমা মোবারেক।

শিশুর অধিকার সুরক্ষা ও শিশুর সার্বিক বিকাশে সহায়তা করার লক্ষ্যে দিবসটিকে কেন্দ্র করে সাত দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল। যার মধ্যে রয়েছে সেমিনার, চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, গোলটেবিল বৈঠক, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ইত্যাদি। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির পাশাপাশি এতে অংশ নেয় ইউনিসেফ, দেশি -বিদেশি শিশু সংগঠন এবং উন্নয়ন সংস্থা।