নেদারল্যান্ডসে যথাযোগ্য মর্যাদায় বাংলাদেশের ৫২তম মহান বিজয় দিবস উদযাপন করা হয়েছে।
শনিবার (১৬ ডিসেম্বর) সকালে দূতাবাস প্রাঙ্গণে দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মু. রিয়াজ হামিদুল্লাহ জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্যদিয়ে দিবসের কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
এরপর সেখানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন করা হয়। উপস্থিত ডাচ ও বাংলাদেশি অতিথিদের কাছে এ দিবসে দেওয়া রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয়।
বিজয় দিবস উপলক্ষে দূতাবাস প্রাঙ্গণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে নেদারল্যান্ডসে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশাত্মবোধক গান, কবিতা ও নৃত্য পরিবেশন করেন। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণকারী এবং বীর প্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত একমাত্র বিদেশি নাগরিক, ডব্লিউ এ এস ওডারল্যান্ডের ওপর দূতাবাসের পৃষ্ঠপোষকতায় নির্মিত একটি তথ্যচিত্রও প্রদর্শন করা হয়। পাশাপাশি দূতাবাস প্রাঙ্গণে শিশুদের জন্য চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে ১৯তম এশিয়ান দ্বি-বার্ষিক চিত্রকলা প্রদর্শনীতে গ্র্যান্ড প্রাইজ বিজয়ী (ডাচ শিল্পী), হ্যারাল্ড স্কলের কাছে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
সমাপনী বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত মু. রিয়াজ হামিদুল্লাহ বলেন, “বাংলাদেশী হিসেবে আত্মপরিচয়ের অধিকার এক সুদীর্ঘ সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে অর্জিত হয়েছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণ এক সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলে এবং তাদের বীরত্ব, ত্যাগ এবং অটল প্রতিজ্ঞার কারণে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে বিজয়ী হয়, বাংলাদেশ স্বাধীন হয়। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে সোনার বাংলা বিনির্মাণে অবদান রাখবে বলে আমি আশা করি।”
এ আয়োজনে দূতাবাসের বিশেষ উদ্যোগে নেদারল্যান্ডসে বসবাসরত বাংলাদেশি পেশাজীবী, বিশেষজ্ঞ এবং ডাচ নাগরিকদের যারা আগে বাংলাদেশে কাজ করেছেন তাদের সংগঠন হিসেবে “ফ্রেন্ডস অব বাংলাদেশ ইন নেদারল্যান্ডস” (এফওবিএন) যাত্রা শুরু করে।