প্রায় এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা আন্দোলন অবশেষে চলতি বছরের আগস্ট মাসের পাঁচ তারিখ গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে পরিণতি পায়, সূচনা হয় নতুন বাংলাদেশের। দেশের এই হাওয়াবদলের সময়ে বিগত ১৬ বছর ধরে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে আসীন হয়ে থাকা বিতর্কিত ব্যক্তিরা হারায় তাদের পদ। বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্তৃত্বস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ এবং ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদেও হয় আমূল পরিবর্তন।
এরই মাঝে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু প্রতিবেদনের কারণে জনমনে তৈরি হয় নতুন আশঙ্কা। এসব প্রতিবেদনে উঠে আসে বেশ কিছু ব্যাংকের নাম, দাবি করা হয় গ্রাহকের আমানতের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ এই ব্যাংকগুলো। এমনকি ব্যাংকগুলো দেউলিয়া হয়ে গেছে এমনটাও বলা হয় এসব প্রতিবেদনে।
বেশ কিছু ব্যাংকের লোগোও ব্যবহার করা হয় এসব প্রতিবেদন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পোস্টগুলোতে। যার দরুন ব্যাংকগুলো একটি বিতর্কিত পরিস্থিতির সম্মুখীন হয় এবং সাধারণ মানুষের মনে সৃষ্টি হয় আশঙ্কা। এরইমধ্যে একটি ব্যাংক হলো আইএফআইসি ব্যাংক পিএলসি।
এইসব প্রতিবেদন এবং তার প্রভাব সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাওয়া হলে আইএফআইসি ব্যাংকের মুখপাত্র, উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং ব্রাঞ্চ বিজনেসের প্রধান জনাব মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “১৪০০ এরও বেশি শাখা-উপশাখা নিয়ে দেশের সর্ববৃহৎ ব্যাংকিং নেটওয়ার্কের মাধ্যমে দেশজুড়ে আমরা দিয়ে যাচ্ছি নিরবচ্ছিন্ন সেবা। বর্তমানে আমাদের সকল শাখা-উপশাখা এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মে গ্রাহকগণ নগদ উত্তোলন থেকে শুরু করে যেকোনো লেনদেন করছেন নির্বিঘ্নে। বিগত এক দশকে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে কোনো ধরণের তারল্য সহায়তা নেওয়ার প্রয়োজন পড়েনি আমাদের। এছাড়াও, ৩২.৭৫% সরকারি মালিকানা এবং প্রায় পাঁচ হাজারেরও বেশি দক্ষ জনবল নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে আইএফআইসি ব্যাংক। শুধু ব্যাংক হিসেবে নয়, বরং একটি দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেশের বিভিন্ন ক্রান্তিলগ্নে দেশের মানুষের প্রয়োজনে এগিয়ে এসেছি আমরা।”
তিনি আরও বলেন, “সম্প্রতি কিছু প্রতিবেদনে সঠিক তথ্য উপাত্ত কিংবা কোনো প্রাসঙ্গিকতা ছাড়াই আমাদের লোগো ব্যবহার করায় জনমনে একটা বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। অত্যন্ত দক্ষ এবং অভিজ্ঞতাসম্পন্ন সদস্যদের নিয়ে ইতোমধ্যে আমাদের নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা হয়ে গেছে। এই সাময়িক অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি আমরা দ্রুতই কাটিয়ে উঠবো। আমাদের সম্মানিত গ্রাহকগণই আমাদের মূল চালিকা শক্তি। বিগত চার দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশের মানুষের আস্থা ও ভরসার জায়গায় পরিণত হয়েছি আমরা। গ্রাহকের আস্থাই আমাদের সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবে সুন্দর আগামীর পথে।”
চলমান পরিস্থিতিতে বিভিন্ন কারণে বেশকিছু ব্যাংক নিয়ে সাধারণ জনগণের মনে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন এতে দেশের সার্বিক অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। তাই, আতঙ্কিত না হয়ে যাচাই বাছাই করা এবং সঠিক তথ্যের উপর ভিত্তি করে জনগণকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।