শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে অ্যাপলের নতুন সিইও’র পরামর্শ

ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়ার সমাবর্তন অনুষ্ঠানে অ্যাপলের তখনকার হার্ডওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং পরবর্তী প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জন টার্নাস এক অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য প্রদান করেন। তার সেই বক্তব্যের মূল বিষয়গুলো নিচে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো: 

১. প্রতিটি কাজের প্রতি গভীর মনোযোগ

টার্নাস বিশ্বাস করেন, কোনো কাজের মান নির্ভর করে তার প্রতি আপনার যত্নের ওপর। তিনি তার ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের একটি উদাহরণ দেন, যেখানে একটি মনিটরের পেছনের স্ক্রুর নকশা নিখুঁত করতে তিনি গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করেছিলেন।

হয়তো সাধারণ কোনো গ্রাহক মনিটরের পেছনের সেই স্ক্রুর নকশাটি কখনো খেয়ালও করবেন না, কিন্তু টার্নাসের মতে, “এটা স্বাভাবিক না হলেও, এটাই সঠিক কাজ।” যখন আপনি আপনার কাজের পেছনে কয়েক মাস বা বছর ব্যয় করেন, তখন তার প্রতিটি ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অংশ নিখুঁত হওয়া জরুরি। কাজের প্রতি এই একনিষ্ঠতাই একজন সাধারণ কর্মীকে অন্যদের থেকে আলাদা করে। 

২. অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস নয়

পেশাদার জীবনে নিজেকে অন্যদের সমকক্ষ ভাবার মতো আত্মবিশ্বাস থাকা জরুরি, কিন্তু নিজেকে সবজান্তা মনে করা যাবে না। এই দুটি বিষয়ের মধ্যে ভারসাম্য থাকা প্রয়োজন।  

টার্নাস অ্যাপলে যোগ দেওয়ার সময় বেশ ভয়ে ছিলেন, কিন্তু তিনি সাহায্য চাইতে কখনো দ্বিধাবোধ করেননি। তিনি মনে করেন, শিক্ষাজীবন শেষ মানেই শেখা শেষ নয়। তিনি শুরুতে প্লাস্টিক বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করলেও পরে যখন কোম্পানি অ্যালুমিনিয়াম ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেয়, তখন তিনি নিজেকে নতুন করে তৈরি করেন। প্রতিনিয়ত শিখতে থাকার মানসিকতাই একজন মানুষকে দীর্ঘ মেয়াদে সফল করে তোলে।

৩. মূল্যবোধ

কেবল প্রযুক্তি বা পণ্য তৈরি করাই যথেষ্ট নয়, সেই কাজটি যেন বৃহত্তর কোনো লক্ষ্য বা মূল্যবোধের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। টার্নাস জোর দিয়েছেন এমন কিছু করার ওপর, যা পৃথিবীর কোনো বড় বড় সমস্যার সমাধান দেবে।

তার মতে, ব্যক্তিগত লাভের ঊর্ধ্বে উঠে পরিবেশ রক্ষা বা মানবতার কল্যাণে কাজ করা উচিত। অ্যাপল যেমন ২০৩০ সালের মধ্যে পুরো সাপ্লাই চেইনকে কার্বনমুক্ত করার চ্যালেঞ্জ নিয়েছে, তেমনি নতুন প্রকৌশলী ও পেশাজীবীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন - এমন কিছু তৈরি করো যা দুরারোগ্য ব্যাধির চিকিৎসা করবে, বিশুদ্ধ পানি নিশ্চিত করবে বা মানুষের দূরত্ব কমিয়ে আনবে।

তিনি স্টিভ জবস একটি বক্তব্য স্মরণ করিয়ে দেন। স্টিভ জবস বলেছেন, মহাবিশ্বে নিজের কাজের মাধ্যমে একটি স্থায়ী “চিহ্ন” রেখে যাওয়ার মধ্যে জীবনের চূড়ান্ত সার্থকতা। তাই শিক্ষাজীবন থেকেই নিজেদের এমনভাবে তৈরি করা উচিত যেন আমরা আমাদের চারপাশের পৃথিবীকে বদলে দিতে পারি।