উন্নত ক্যারিয়ার গড়ার আশা উচ্চশিক্ষার জন্য স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির আশা কমবেশি সবারই থাকে। অনেকের ভাবনায় থাকে বিদেশে পড়াশোনা করার। স্বপ্ন যখন বিদেশের মাটিতে উচ্চশিক্ষা, তখন বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায় পাহাড়সম খরচ। কিন্তু শিক্ষাব্যবস্থা এবং খরচের হিসাব মিললেই উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে পাড়ি জমানো সম্ভব।
বিশ্বে এমন কিছু দেশ আছে, যেসব দেশের বিশ্ববিদ্যালয় কম খরচে পড়ার সুযোগ রয়েছে। চলুন জেনে নেই এমন পাঁচটি দেশ সম্পর্কে-
অস্ট্রিয়া
ইউরোপের অন্যতম সমৃদ্ধ দেশ অস্ট্রিয়া বর্তমানে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য একটি আদর্শ গন্তব্য। এখানকার পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে মেধার কদর যেমন আছে, খরচও তেমনি সীমিত।
অস্ট্রিয়ার পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নন-ইইউ (Non-EU) দেশগুলোর শিক্ষার্থীদের প্রতি সেমিস্টারে গড়ে ৭২৬.৭২ ইউরো (প্রায় ৮৫,০০০-৯০,০০০ টাকা) টিউশন ফি দিতে হয়। তবে, বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য ভিয়েনা বিশ্ববিদ্যালয়, ইনসব্রুক বিশ্ববিদ্যালয় এবং গ্রাজ বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলো টিউশন ফি মুক্ত শিক্ষা প্রদান করছে। এ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের কেবল সেমিস্টার প্রতি প্রায় ২৪-২৫ ইউরো (৩,৪৫০ থেকে ৩৫৯৪ টাকা) কন্ট্রিবিউশন ফি দিতে হয়।
ভিয়েনা বা সালজবার্গের মতো শহরে আবাসন ও খাবারসহ মাসিক খরচ ৯৫০ থেকে ১,৩০০ ইউরো (প্রায় ১ লাখ ৩৭ হাজার থেকে ১ লাখ ৮৭ হাজার টাকা)। তবে লিনজ বা গ্রাজ-এ এই খরচ ৯০০ ইউরোতে (প্রায় ১ লাখ ২৯ হাজার ৩৬৬ টাকা) নামিয়ে আনা সম্ভব।
তাইওয়ান
প্রযুক্তি এবং গবেষণায় তাইওয়ান এখন বিশ্বসেরাদের কাতারে। ইংরেজি মাধ্যমে উচ্চশিক্ষার জন্য দেশটি বর্তমানে এশিয়ার অন্যতম জনপ্রিয় হাবে পরিণত হয়েছে। বার্ষিক টিউশন ফি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ১,১০০ থেকে ৭,৫০০ ইউরো (প্রায় ১ লাখ ৫৮ হাজার থেকে ১০ লাখ ৭৮ হাজার টাকা) পর্যন্ত হতে পারে। তবে মাসিক জীবনযাত্রার খরচ ইউরোপের তুলনায় অনেক কম - প্রায় ৬৫০ থেকে ৯০০ ইউরো (প্রায় ৯৪ হাজার থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা)। দেশটি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য প্রচুর স্কলারশিপ প্রদান করে এবং পড়াশোনা শেষে প্রযুক্তি খাতে কাজের অবারিত সুযোগ রয়েছে।
জার্মানি
২০২৬ সালেও জার্মানি তার নো টিউশন ফি নীতি বজায় রেখেছে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কোনো বেতন দিতে হয় না। ব্লকড অ্যাকাউন্টে বার্ষিক প্রায় ১১,৯০৪ ইউরো (প্রায় ১৭ লাখ ১৩ হাজার ১০০ টাকা) দেখাতে হয়। তবে পার্ট-টাইম কাজ করে এই খরচ মেটানো এখন আগের চেয়ে সহজ।
ইতালি
সাশ্রয়ী জীবনযাত্রা এবং ঐতিহাসিক সব বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ইতালি চিরকালই জনপ্রিয়। ইতালিতে অনেক শিক্ষার্থী ডিএসইউ স্কলারশিপ (DSU) স্কলারশিপের মাধ্যমে সম্পূর্ণ ফ্রিতে পড়ার পাশাপাশি ফ্রিতে থাকা ও খাবারের সুবিধাও পায়। এটি মূলত পারিবারিক আয়ের ওপর ভিত্তি করে দেওয়া হয়।
মালয়েশিয়া ও তুরস্ক
যারা দেশের কাছাকাছি থাকতে চান, তাদের জন্য মালয়েশিয়া এবং তুরস্ক সেরা বিকল্প। তুরস্কে সরকারি স্কলারশিপ (Türkiye Bursları) পেলে কোনো খরচ ছাড়াই পড়াশোনা শেষ করা সম্ভব। আর মালয়েশিয়ায় জীবনযাত্রার খরচ প্রতি মাসে ৪৫০ থেকে ৮০০ ইউরোর (প্রায় ৬৪ হাজার ৮০০ থেকে ১ লাখ ১৫ হাজার ২০০ টাকা)। বাংলাদেশের কাছাকাছি হওয়ায় এটি অনেক মধ্যবিত্ত পরিবারের প্রথম পছন্দ।
শিক্ষার্থীদের জন্য জরুরি টিপস
১. জার্মান বা ইতালিয়ান ভাষা শিখে রাখলে পার্ট-টাইম জব এবং স্কলারশিপ পাওয়া অনেক সহজ হয়।
২. ইউরোপের অনেক দেশে বর্তমানে লিভিং কস্ট হিসেবে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা ব্যাংকে জমা রাখতে হয়। আবেদনের আগে সেই পরিমাণটি যাচাই করে নিন।
৩. অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ে সেমিস্টার শুরুর ৬-৯ মাস আগেই আবেদনের প্রক্রিয়া শুরু করতে হয়।
৪. পড়তে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর চাহিদা, সামর্থ্য ও অন্যান্য বিষয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্কলারশিপের চেষ্টা করা উচিত। এর জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কলারশিপ প্রক্রিয়া সম্পর্কে ভালোভাবে জানা দরকার
৫. কম খরচে দেশের বাইরে পড়তে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর চাহিদা, সামর্থ্য ও অন্যান্য বিষয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্কলারশিপের চেষ্টা করা উচিত। এর জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কলারশিপ প্রক্রিয়া সম্পর্কে ভালোভাবে জানা দরকার।
৬. বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট, সেখানকার অধ্যয়ন উপদেষ্টার সঙ্গে স্কলারশিপ বা স্টুডেন্ট লোনের ব্যাপারে কথা বলা ভালো। বিদেশে স্নাতক পড়ার জন্য আর্থিক সহায়তার মধ্যে আছে ফেডারেল অনুদান, ফেডারেল ও ব্যক্তিগত ঋণ। এর বাইরে আছে বেসরকারি সংস্থার বৃত্তি।
সাশ্রয়ী খরচে উচ্চশিক্ষা এখন আর কেবল স্বপ্ন নয়, সঠিক পরিকল্পনা এবং তথ্যের মাধ্যমে এটি এখন আপনার হাতের নাগালে।



