বিয়ে মানুষের জীবনে কেবল একটি সামাজিক বা মানবিক প্রয়োজনই নয়, এটি মহান আল্লাহ তাআলার একটি বিশেষ বিধান। সৃষ্টিগতভাবেই নারী ও পুরুষ একে অপরের পরিপূরক। বিয়ের মাধ্যমে মানুষের জীবনের একাকীত্ব দূর হয় এবং দাম্পত্য জীবনে সুখ-প্রশান্তি নেমে আসে। মানুষের আদি পিতা হজরত আদম (আ.)-কে সৃষ্টির পর আল্লাহ তাআলা হজরত হাওয়া (আ.)-কে তার জীবনসাথি হিসেবে সৃষ্টি করে এই পবিত্র বন্ধনের সূচনা করেছিলেন।
পবিত্র কোরআনের সূরা রুমের ২১ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন, “আর তার নিদর্শনাবলির মধ্যে রয়েছে যে তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের থেকেই স্ত্রীদের সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে প্রশান্তি পাও। আর তিনি তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা ও মায়া সৃষ্টি করেছেন।”
অনেকেই জীবনে দ্রুত বিয়ে সম্পন্ন হওয়া কিংবা বিয়ের আনুষঙ্গিক কাজ সহজ হওয়ার জন্য বিভিন্ন আমল খুঁজে থাকেন। উলামায়ে কেরাম পবিত্র কোরআনে বর্ণিত বিশেষ দুটি দোয়ার মাধ্যমে আমল করার পরামর্শ দিয়েছেন, যা উত্তম জীবনসঙ্গী লাভে অত্যন্ত কার্যকর।
১. উত্তম জীবনসঙ্গী ও রিযিক লাভের দোয়া
পবিত্র কোরআনে হজরত মুসা (আ.)-এর একটি দোয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে। ফেরাউনের ঘর থেকে বের হয়ে যখন তিনি নিঃস্ব অবস্থায় ছিলেন, তখন এই দোয়াটি করার পর আল্লাহ তাআলা তাঁর থাকা-খাওয়া, আশ্রয় এবং একই সঙ্গে উত্তম জীবনসঙ্গীনির ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। দোয়াটি হলো:
ﺭَﺏِّ ﺇِﻧِّﻲ ﻟِﻤَﺎ ﺃَﻧْﺰَﻟْﺖَ ﺇِﻟَﻲَّ ﻣِﻦْ ﺧَﻴْﺮٍ ﻓَﻘِﻴﺮٌ
উচ্চারণ: রাব্বি ইন্নি লিমা- আনজালতা ইলাইয়া মিন খাইরিন ফাকির।
অর্থ: "হে আমার পালনকর্তা, তুমি আমার প্রতি যে অনুগ্রহ পাঠাবে, আমি তার মুখাপেক্ষী।" (সূরা আল-কাসাস, আয়াত: ২৪)
২. চোখ জুড়ানো ও পুণ্যবান স্ত্রী লাভের দোয়া
আল্লাহর নেক বান্দারা সবসময় তাদের পরিবার, জীবনসঙ্গী ও সন্তানদের জন্য বিশেষ দোয়া করেন। পবিত্র কোরআনে এমন একটি দোয়ার কথা শেখানো হয়েছে, যা নিয়মিত পাঠ করলে আল্লাহ তাআলা প্রশান্তিদায়ক ও চোখ জুড়ানো স্ত্রী এবং সন্তান দান করেন। দোয়াটি হলো:
ﺭَﺑَّﻨَﺎ ﻫَﺐ_ ﻟَﻨَﺎ ﻣِﻦ_ ﺃَﺯْﻭَﺍﺟِﻨَﺎ ﻭَﺫُﺭِّﻳَّﺎﺗِﻨَﺎ ﻗُﺮَّﺓَ ﺃَﻋْﻴُﻦٍ ﻭَﺍﺟْﻌَﻠْﻨَﺎ ﻟِﻠْﻤُﺘَّﻘِﻴﻦَ ﺇِﻣَﺎﻣًﺎ
উচ্চারণ: রাব্বানা-হাবলানা-মিন আজওয়া-জিনা- ওয়া যুররিইয়া-তিনা, কুররাতা আ‘ইউনিওঁ, ওয়াজ‘আলনা-লিলমুত্তাকিনা ইমা-মা-।
অর্থ: "হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদের স্ত্রীদের পক্ষ থেকে এবং আমাদের সন্তানের পক্ষ থেকে আমাদের জন্যে চোখের শীতলতা দান করো এবং আমাদের আল্লাহভীরুদের জন্য আদর্শস্বরূপ করো।" (সূরা ফুরকান, আয়াত: ৭৪)
ইসলামী চিন্তাবিদদের মতে, শুদ্ধ নিয়তে এবং আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা রেখে এই কোরআনি আমলগুলো করলে বৈবাহিক জীবনের সব জটিলতা দূর হয় এবং কল্যাণময় জীবনসঙ্গী লাভ করা সহজ হয়।