বর্তমান সময়ে প্রায় প্রতিটি ঘরেই ফ্রিজ একটি অপরিহার্য গৃহস্থালি যন্ত্র। খাবার সংরক্ষণ থেকে শুরু করে ফল, সবজি ও দুগ্ধজাত পণ্য সতেজ রাখতে এর ব্যবহার ব্যাপক। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, ফ্রিজ ব্যবহারে কিছু সাধারণ ভুল বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
অনেকেই মনে করেন, বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনার ঝুঁকি মূলত এসির ক্ষেত্রে বেশি। কিন্তু ফ্রিজও একটি বিদ্যুৎচালিত যন্ত্র হওয়ায় এর ভুল ব্যবহার আগুন লাগা, শর্টসার্কিট কিংবা বিস্ফোরণের মতো ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ১০ থেকে ১৫ বছরের বেশি পুরোনো ফ্রিজ ব্যবহারে অতিরিক্ত সতর্কতা প্রয়োজন। দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে কম্প্রেশারের ওপর চাপ বাড়ে এবং এটি অতিরিক্ত গরম হয়ে যেতে পারে। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ না করলে কম্প্রেশারে ত্রুটি দেখা দিয়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়।
ফ্রিজে অতিরিক্ত খাবার বা পণ্য সংরক্ষণও ঝুঁকির কারণ হতে পারে। এতে ভেতরে বাতাস চলাচল বাধাগ্রস্ত হয় এবং ফ্রিজকে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি কাজ করতে হয়। ফলে বিদ্যুৎ খরচ বাড়ার পাশাপাশি যন্ত্রাংশের ওপর চাপও বৃদ্ধি পায়।
নিম্নমানের প্লাগ, সকেট বা বৈদ্যুতিক তার ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। ভোল্টেজের ওঠানামার সময় স্টেবিলাইজার ব্যবহার না করলে কম্প্রেশার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
এ ছাড়া ফ্রিজের কুলিং সিস্টেম ও কয়েলের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ না করলে গ্যাস লিকের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। গ্যাস লিক হয়ে আগুন বা স্পার্কের সংস্পর্শে এলে তা মারাত্মক দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
নিরাপদ ব্যবহারের জন্য ফ্রিজ নিয়মিত পরিষ্কার রাখা এবং অন্তত ছয় মাস পরপর সার্ভিসিং করানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ফ্রিজের পেছনে পর্যাপ্ত ফাঁকা জায়গা রাখতে হবে, যাতে তাপ সহজে বের হতে পারে। বদ্ধ বা অপরিষ্কার স্থানে ফ্রিজ রাখলে তা দ্রুত গরম হয়ে যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, ফ্রিজ থেকে পোড়া গন্ধ, ধোঁয়া, স্পার্ক বা অস্বাভাবিক শব্দ এলে দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে হবে। এরপর অভিজ্ঞ ইলেকট্রিশিয়ান বা সার্ভিস টেকনিশিয়ানের সহায়তা নেওয়া উচিত।
তাদের মতে, সময়মতো সতর্কতা ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে ফ্রিজজনিত বড় ধরনের দুর্ঘটনা সহজেই এড়ানো সম্ভব।