জাপানে কমে যাওয়া জন্মহার বাড়াতে টোকিও সরকার ২০২৪ সালে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিনির্ভর যে ডেটিং অ্যাপ চালু করেছিল, সেই অ্যাপের মাধ্যমে পরিচয়ের পর এখন পর্যন্ত ২৬৫ যুগল বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন।
দেশটির সরকারি তথ্য থেকে বিষয়টি জানা গেছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
‘টোকিও এনমুসুবি' নামের অ্যাপটি ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে চালু করা হয়। এর আগে এক জরিপে দেখা যায়, বিয়েতে আগ্রহী প্রায় ৭০% মানুষ সঙ্গী খোঁজার উদ্যোগে সক্রিয় ছিলেন না।
এই অনীহা দূর করতে এবং শুধুমাত্র বিয়েতে আগ্রহী ব্যক্তিদের অ্যাপে যুক্ত করতে নিবন্ধনের ক্ষেত্রে বেশ কিছু শর্ত রাখা হয়। আবেদনকারীদের আইনগতভাবে অবিবাহিত হওয়ার প্রমাণ দিতে হয় এবং অনলাইন সাক্ষাৎকারেও অংশ নিতে হয়।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত অ্যাপটিতে নিবন্ধিত সদস্যের সংখ্যা ছিল ১৬,০০০। প্রায় ৩৬,০০০ আবেদনকারীর মধ্য থেকে যাচাই-বাছাই করে এসব সদস্যকে নির্বাচন করা হয়েছে।
বর্তমানে অ্যাপটির মাধ্যমে পরিচয় হওয়া ৭৬০ জুটি তখন গভীর সম্পর্কে ছিলেন। এ পর্যন্ত এসবের মধ্যে ২৬৫ জুটি বিয়ে করেছেন।
সরকার প্রকাশিত তথ্যে ‘টার্টল’ (ছদ্মনাম) নামে এক নারীর অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরা হয়েছে। তিনি জানান, ৪০তম জন্মদিন ঘনিয়ে আসার পর ‘শেষ সুযোগ’ হিসেবে তিনি অ্যাপটি ব্যবহার শুরু করেন।
তিনি বলেন, “কয়েকজনের সঙ্গে পরিচয়ের পর গত বছরের আগস্টের শেষ দিকে আমার বর্তমান স্বামীর সঙ্গে দেখা হয়। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি আমরা গভীর সম্পর্কে জড়াই।ডিসেম্বরের শেষ দিকে আমি তার বিয়ের প্রস্তাব গ্রহণ করি।”
এদিকে, জাপানের স্বাস্থ্য, শ্রম ও কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্যে দেখা গেছে, ২০২৫ সালে দেশটিতে জাপানি নাগরিকদের ঘরে জন্ম নেওয়া শিশুর সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৭১ হাজার ২৩৬ জনে, যা দেশটির ইতিহাসে সর্বনিম্ন। টানা দশম বছরের মতো জন্মহার কমেছে।
জাপানের স্বাস্থ্য, শ্রম ও কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী জানা গেছে, ২০২৫ সালে দেশটিতে মৃত্যুর সংখ্যা ছিল প্রায় ১৬ লাখ, যা জন্মের সংখ্যার দ্বিগুণেরও বেশি। একই সময়ে বিয়ের সংখ্যা সামান্য বাড়লেও মোট প্রজনন হার ০.০১% পয়েন্ট কমে ১.১৪-এ নেমে এসেছে।