অন্ধকার রাতে কোনো পরিত্যক্ত বা ‘অভিশপ্ত’ বাড়িতে একা থাকার কথা শুনলে অনেকেই ভয় পান। কিন্তু কোনো ভুতুড়ে বাড়িতে এক রাত কাটানোর বিনিময়ে যদি আপনাকে টাকা দেওয়া হয়? জাপানের আবাসন বাজারে ঠিক এমন এক অদ্ভুত ও রোমাঞ্চকর পেশার দেখা মিলছে। এই বিচিত্র পেশার মানুষদের বলা হচ্ছে ‘পেইড হন্টেড হাউস সিটার’।
এই কাজে সাহসী ব্যক্তিদের মোটা অঙ্কের পারিশ্রমিক দিয়ে তথাকথিত ‘ভৌতিক’ বাড়িগুলোতে এক রাত থাকার জন্য নিয়োগ করা হচ্ছে। মাত্র এক রাত অবস্থানের বিনিময়ে কর্মীরা পাচ্ছেন ৮৮,০০০ ইয়েন, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬৬,০০০ টাকার সমান।
শনিবার (১৮ জুলাই) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।
জাপানের আইন অনুযায়ী, আবাসন এজেন্টদের জন্য ক্রেতা বা ভাড়াটেদের কাছে বাড়ির অতীত ইতিহাস প্রকাশ করা বাধ্যতামূলক। অস্বাভাবিক বা অতিপ্রাকৃতিক কোনো ঘটনা ঘটে থাকলে ভয়ে অনেকেই এসব বাড়িতে পা রাখতে চান না। কোনো বাড়িতে খুন, আত্মহত্যা, অগ্নিকাণ্ড কিংবা একাকী কোনো বয়স্ক মানুষের রহস্যজনক মৃত্যু হলে জাপানি ভাষায় তাকে ‘জিকো বুক্কেন’ বা কলঙ্কিত সম্পত্তি বলা হয়। ফলে চমৎকার চমৎকার সব বাড়ি মাসের পর মাস খালি পড়ে থাকে।
বাড়ির মালিক ও আবাসন ব্যবসায়ীরা এই লোকসান কাটাতে অভিনব এই উপায় খুঁজে বের করেছেন।
অর্থের বিনিময়ে যারা রাত কাটাতে আসবেন, তাদের কিন্তু ঘুমিয়ে রাত কাটানোর সুযোগ নেই, বরং সারা রাত ক্যামেরা ও বিভিন্ন অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি নিয়ে তাদের বাড়িটি পর্যবেক্ষণ করতে হবে। রাত শেষে যদি কোনো অস্বাভাবিক কিছু না ঘটে, তবে তারা বাড়িটিকে ‘ভূতমুক্ত’ বলে একটি প্রশংসাপত্র বা সার্টিফিকেট দেবেন।
এমনকি কোনো কোনো কোম্পানি গ্যারান্টিও দেয় - তাদের সার্টিফিকেট দেওয়ার পর যদি কেউ সেখানে সত্যিই ভূতের দেখা পায়, তবে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।
জাপানে এই সেবার চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। এর অন্যতম কারণ দেশটিতে খালি বাড়ির সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়া। বিশেষজ্ঞদের মতে, জন্মহার কমে যাওয়া, বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং শহরমুখী জনসংখ্যার কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকায় লাখ লাখ বাড়ি দীর্ঘদিন ধরে খালি পড়ে আছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই নতুন পেশার মূল লক্ষ্য মানুষের মনে থাকা ভৌতিক বাড়ি নিয়ে ভয় দূর করা। একইসঙ্গে দীর্ঘদিন খালি থাকা বাড়িগুলো আবার ব্যবহারযোগ্য করে তোলা এবং মালিকদের জন্য ক্রেতা বা ভাড়াটিয়া খুঁজে পাওয়া সহজ করাও এর উদ্দেশ্য।



