অস্ট্রেলিয়ার একটি সরকারি গ্রন্থাগারে প্রায় ১৫০ বছর পর একটি বই ফেরত এসেছে। বইটি প্রাচীন গ্রিসের পুরাকীর্তি নিয়ে লেখা।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৮৫৮ সালে প্রকাশিত অ্যান্টিকুইটিজ অব এথেন্স নামের বইটি গত সপ্তাহে কিয়ামা নামের সমুদ্রতীরবর্তী শহরের লাইব্রেরিতে ফেরত দেন এক ব্যক্তি। তিনি বাড়ি সংস্কারের সময় একটি বন্ধ ফায়ারপ্লেসের ভেতরে ইটের গাঁথুনি দিয়ে আটকানো একটি চায়ের বাক্সের মধ্যে বইটি খুঁজে পান।
গ্রন্থাগারটি চালু হয়েছিল ১৮৭২ সালে। আর ‘অ্যান্টিকুইটিজ অব এথেন্স’ নামের বইটি প্রকাশিত হয় ১৮৫৮ সালে। গ্রন্থাগার চালুর শুরুর দিকে প্রায় ১,০০০ বইয়ের সংগ্রহে এবইয়ের নম্বর ছিল ৫০৬। হাডসন ধারণা করছেন, গ্রন্থাগার চালুর কয়েক বছরের মধ্যেই বইটি হারিয়ে যায়।
হাডসনের মতে, বর্তমান মূল্যস্ফীতির হিসাব ধরলে বইটির জরিমানা দাঁড়াবে প্রায় ২৮,০০০ অস্ট্রেলীয় ডলার (যা প্রায় ১৯,৫০০ মার্কিন ডলার)। বইটির প্রচ্ছদের ভেতরের অংশে তৎকালীন কিছু নিয়মকানুন ছাপা ছিল।
তিনি বলেন, “এত পুরোনো কোনো জিনিস আমাদের কাছে আগে কখনো ফেরত আসেনি। সামাজিক মাধ্যমে তিনি যেসব লাইব্রেরিকে অনুসরণ করেন, সেখানে সাধারণত ৩০ বা ৪০ বছর দেরিতে ফেরত আসা জিনিসপত্র দেখা যায়। এসব বই সাধারণত পুরোনো সম্পত্তি পরিষ্কার করার সময় পাওয়া যায়।”
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বইটি এখন গ্রন্থাগারের ইতিহাসের অংশ হয়ে গেছে। তবে প্রকৃতপক্ষে এর মালিক কে ছিলেন, তা শনাক্ত করার কোনো উপায় নেই। গ্রন্থাগারের ১৮৭০-এর দশকের ধার নেওয়ার দিনলিপিটি হারিয়ে গেছে। ওই দিনলিপিতেই কে কখন কোন বই নিয়েছিল, তার হিসাব লিপিবদ্ধ থাকত।
হাডসন বলেন, “দুর্ভাগ্যবশত, আমাদের কাছে এ বিষয়ে কোনো সূত্র নেই। বইটিতেও এমন কিছু নেই, যা থেকে সর্বশেষ গ্রহীতার পরিচয় জানা যাবে।”
লাইব্রেরির মূল নিয়ম অনুযায়ী, পুনরায় বই ধার করার আগে একজন ধারকারীকে বইটি ফেরত দিতে এবং সব বকেয়া পরিশোধ করতে হতো। একটি পরিবার সর্বোচ্চ তিনটি বই ধার করতে পারত। তবে এক্ষেত্রে শর্ত ছিল, পরিবারের অন্তত ছয়জন পড়তে সক্ষম সদস্য থাকতে হবে। এছাড়া নেশাগ্রস্ত অবস্থায় কাউকে বই ধার দেওয়া হতো না। হয়তো এ কারণেই তারা বইটি আমাদের ফেরত দেয়নি বলে মনে করছেন হাডসন।