গবেষণা: প্রতিদিনের ভারোত্তোলন ব্যায়াম মৃত্যুর ঝুঁকি কমায়

বয়স্ক ব্যক্তিদের মধ্যে পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে যে, নিয়মিত ভারোত্তোলন ব্যায়াম ক্যান্সার বাদে অন্য যেকোনো রোগে মৃত্যুর ঝুঁকি কমায়। গবেষণার ফলাফল ব্রিটিশ জার্নাল অব স্পোর্টস মেডিসিন জার্নালে প্রকাশ করা হয়েছে।

গবেষণায় উঠে এসেছে, প্রাপ্তবয়স্ক একজন মানুষ সপ্তাহে কমপক্ষে ১৫০ মিনিট মাঝারি ধরনের-অ্যারোবিক অ্যাক্টিভিটি, পাঁচ মিনিটের জোরালো-তীব্র অ্যারোবিক অ্যাক্টিভিটি বা দুটি সমানভাবে সমন্বয় করে করতে পারেন।

গবেষণায় সুপারিশ করা হয়েছে, প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের এ ধরনের কসরৎ করা উচিৎ। এসব শারীরিক ব্যায়াম শরীরের সব প্রধান পেশীগুলোকে সক্রিয় করতে সহায়তা করে।

যদিও অ্যারোবিক অ্যাক্টিভিটি ধারাবাহিকভাবে মৃত্যুর ঝুঁকি কমায়, তবে ভারোত্তোলন ব্যায়ামে একই প্রভাব আছে কি-না তা স্পষ্ট নয়।

শারীরিক ব্যায়ামের মাধ্যমে মৃত্যুঝুঁকি কমানোর বিষয়ে জানার জন্য গবেষকরা বয়স্ক ব্যক্তিদের ওপর পরীক্ষা চালান। তারা আলাদাভাবে ভারোত্তোলন প্রশিক্ষণ এবং অ্যারোবিক অ্যাক্টিভিটিসের সম্ভাব্যতা পরীক্ষা করেন। এই সময়কালে গবেষকরা তাদের প্রোস্টেট, ফুসফুস, কোলোরেক্টাল এবং ওভারিয়ান ক্যান্সার স্ক্রিনিং ট্রায়াল পরীক্ষা করেন।

এই গবেষণাটি শুরু হয়েছিল ১৯৯৩ সালে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ১০টি ক্যান্সার সেন্টার থেকে এক লাখ ৫৪ হাজার ৮৯৭ জন পুরুষ এবং মহিলার ওপর গবেষণাটি করা হয়। তাদের প্রত্যেকের বয়স ছিল ৫৫ থেকে ৭৪ বছরের মধ্যে।

অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ১ লাখ ৪ হাজার দুইজনকে ২০০৬ সালে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল যে, তারা আগের বছর ওজন নিয়ে কোনো ধরনের ব্যায়াম করেছিলেন কি-না। যদি করে থাকেন তাহলে সপ্তাহে বা মাসে কতবার।

এছাড়াও তাদের পূর্ববর্তী বছরের শারীরিক কার্যকলাপ নিয়েও প্রশ্ন করা হয়েছিল। তারা আগের বছর মাঝারি এবং তীব্র শারীরিক কার্যকলাপ কী পরিমাণ করেছেন এবং এর সময়কাল সম্পর্কেও প্রশ্ন করা হয়।

তীব্র মাঝারি ব্যায়ামে হালকা ঘাম হয় বা শ্বাস-প্রশ্বাস এবং হৃদস্পন্দন মাঝারি থেকে উচ্চমাত্রায় হয়। ‍আর গুরুতর ব্যায়াম হচ্ছে, এই ব্যায়ামের ফলে শরীরে ভারি ঘাম তৈরি হবে বা শ্বাস এবং হৃৎস্পন্দন খুব উচ্চভাবে হবে।

চূড়ান্ত গবেষণায় ৯৯ হাজার ৭১৩ জনের প্রতিক্রিয়া নেওয়া হয়, তাদের মধ্যে ২৮ হাজার ৪৭৭ জনকে যে সময় ধরে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে তার যোগফল ৯১২ বছর। পর্যবেক্ষণের শুরুতে তাদের বয়স ছিল ৭১ বছর। তাদের গড় বডি মাস ইনডেক্স (বিএমআই) ছিল ২৭.৮ কেজি, যা ইঙ্গিত করে যে তাদের ওজন বেশি ছিল।

উত্তরদাতাদের প্রায় এক-চতুর্থাংশ (২৩%) বিভিন্ন সময় ভারোত্তোলন করেছেন এবং এর মধ্যে ১৬% বলেছেন, তারা সপ্তাহে এক থেকে ছয়বার ওজন নিয়ে ব্যায়াম করেছেন। আর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ (৩২%) অ্যারোবিক অ্যাক্টিভিটিসে যথেষ্ট সক্রিয় ছিল। ২৪% বা তার বেশি ৮% এমভিপিএ প্রয়োজনীয়তা পূরণ করেছে।

ভারোত্তোলন ব্যায়াম এবং অ্যারোবিক এমভিপিএ কার্ডিওভাসকুলার রোগসহ যেকোনো ধরনের রোগের মৃত্যুর ঝুঁকি কমায়, তবে ক্যান্সার বাদে। ওজন নিয়ে ব্যায়াম করলে ৯-২২% মৃত্যুর ঝুঁকি কমে। তবে তা পরিমাণের ওপর নির্ভর করে; যেমন, সপ্তাহে এক বা দুইবার ভারোত্তোলন করলে ১৪% মৃত্যুর ঝুঁকি কমে।

তবে, যারা উভয় ধরনের শারীরিক ব্যায়াম করেছেন তাদের মৃত্যুর ঝুঁকি সবচেয়ে কম ছিল। উদাহরণস্বরূপ, যারা সুপারিশ অনুযায়ী পরিমাণমতো সাপ্তাহিক এমভিপিএ পূরণ করেছেন এবং সপ্তাহে একবার বা দু’বার ওজন নিয়ে ব্যায়াম করেছেন তারা শারীরিকভাবে নিষ্ক্রিয় (ব্যায়াম বা শারীরিক পরিশ্রম করেন না) ব্যক্তিদের তুলনায় ৪১-৪৭% কম মৃত্যুর ঝুঁকিতে রয়েছেন।

শিক্ষাগত যোগ্যতা, ধূমপান, বিএমআই এবং জাতীয়তা এই পর্যবেক্ষণে কোনো প্রভাব ফেলেনি। কিন্তু লিঙ্গ এখানে প্রভাব ফেলেছে, নারীদের মধ্যে এর প্রভাব বেশি ছিল।