অজান্তেই সন্তানের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করছেন না তো!

অভিভাবকরা সর্বদাই সন্তানের ভালো চান। সন্তানের মঙ্গলের জন্য কোনো কাজ করতে তারা কার্পণ্য করেন না। কিন্তু মাঝেমাঝে অভিভাবকরা অজান্তেই এমন কিছু কাজ করে থাকেন, যার ফলে সন্তানদের সঙ্গে তাদের দূরত্ব তৈরি হয়।

অভিভাবকদের প্রায়ই দুঃখপ্রকাশ করে নিজেকে প্রশ্ন করতে শোনা যায়, সন্তানরা কেন আমাদের কাছ থেকে দূরে দূরে থাকছে? এক্ষেত্রে ছোট ছোট কিছু কাজের মধ্যেই সমাধান লুকিয়ে রয়েছে। অভিভাবকরা প্রায়শই অভিযোগ করেন যে, সন্তান তাদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করে না।

এখানে মূল ব্যাপার হলো বিষয়টি আপনি কীভাবে সামাল দেন। আপনি কি সন্তানদের ওপর দোষ চাপিয়ে তাদের সঙ্গেও বাজে আচরণ করেন? নাকি আপনি সযত্নে তাদের ভুলটা ধরিয়ে দিয়ে তাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক স্থাপন করেন।

মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং পরামর্শক রন ইয়াপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে বলেন, অভিভাবক হওয়া বেশ কঠিন একটা কাজ। কারণ আপনাকে স্বাধীনতা এবং নির্দেশনার সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে।

তিনি আরও বলেন, অভিভাবক হওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সন্তানের প্রতি আপনাকে অবশ্যই যত্নশীল হতে হবে। আপনাকে নিখুঁত না হলেও চলবে। কিন্তু সন্তানের সঙ্গে আপনার যোগাযোগের ক্ষেত্রে ভিত্তি যেন মজবুত হয়। যেকোনো পরিস্থিতিতে সন্তান যেন নিঃসঙ্কোচে আপনাকেই তার আশ্রয়স্থল ভাবতে পারে।

সন্তানদের সঙ্গে বন্ধন দৃঢ় করার জন্য রন ইয়াপ অভিভাবকদের কিছু কাজ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন। সেগুলো হলো-

- মৌখিক বা মানসিকভাবে সন্তানদের অপমান করা। কারণ এসব মোকাবিলার জন্য সন্তানরা অভিভাবকদের সামনে নীরব থাকাকে শ্রেয় মনে করে।

- সন্তানদের কোনো কাজ আপনার পছন্দ না হলে কিংবা আপনার কোনো কাজ তাদের অপছন্দ হলে, যথোপযুক্ত কারণ থাকা সত্ত্বেও তা ব্যাখ্যা না করা।

- সন্তানরা প্রাপ্তবয়স্ক হলে তাদের নিজের চাহিদা পূরণের বস্তু মনে করা

- আপনার শৈশবকালে মা-বাবার কাছে থেকে যেসব দুঃখ পেয়েছেন, সন্তানদেরও সেসব অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে দেওয়া। কারণ এক্ষেত্রে চক্র ভেঙে সন্তানরা পরিবারের সঙ্গে বন্ধন ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

- মানসিক চাহিদা পূরণের জন্য বিকল্প মাধ্যম বেছে নিতে বাধ্য করা। অভিভাবক হিসেবে আপনাকেই নিজের সন্তানদের মানসিক চাহিদা পূরণ করতে হবে। তা না হলে সন্তদানদের সঙ্গে আপনার দূরত্ব তৈরি হতে পারে।

- সন্তানদের স্বাধীনতা এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তাকে অসম্মান করে তাতে হস্তক্ষেপ করা

এসব বিষয় এড়িয়ে চললে আপনার সন্তানের সঙ্গে একটি সুদৃঢ় বন্ধন গড়ে তোলা সম্ভব।