নানা জঞ্জালের জীবনে বিষাদ ভর করে। এরও মাত্রা থাকে। অনেক সময় বিষাদ দুঃখ, বেদনায় রূপ নেয়। মন ভাঙা ক্ষণ তখন। আর এই পরিস্থিতিতে আমাদের সহায় “রম্য”। যা মুহূর্তেই মনের ভাব পাল্টে দেয়। তাই বিশ্বময় “ফানি কন্টেন্ট” এর চাহিদা বাড়ার কারণ অযৌক্তিক নয়।
সাহিত্যের বেলায় এ দশার ব্যতিক্রম নেই। বিশ্ব সাহিত্যের মতো বাংলা সাহিত্যেও বেশ উল্লেখযোগ্য অংশ “রম্য সাহিত্য”। সাম্প্রতিক সময়ে দেখা যায়, বিভিন্ন পত্রিকায় নিয়মিত “রম্য রচনা” দিয়ে সাজানো হচ্ছে সাপ্লিমেন্ট। অনলাইন পত্রিকা হলে এর জন্য আলাদা সেগমেন্ট। রম্যের কদর আছে বলেই এমনটা হচ্ছে।
চলমান অমর একুশে গ্রন্থমেলাও এর ব্যতিক্রম নয়। বরাবরের মতোই বহু জনরার বই প্রকাশ হয়েছে এবার। এ ফেব্রুয়ারির অনেক মলাটবন্দি সৃষ্টির ভেতর রম্য সাহিত্যপ্রেমীরা আকৃষ্ট হতে পারেন এমন এক বই হচ্ছে নবীন লেখক অর্পণ দাশগুপ্ত লিখিত প্রথম বই “লোকাল রম্য”। প্রথম বইয়েই রম্য লেখনীতে নিজের রসাত্মক পরিচয় সুস্পষ্ট করেছেন লেখক।
১৯টি রম্য রচনায় বিন্যস্ত এ বই। এর প্রতিটি লেখা স্বতন্ত্র। লেখার আয়তন বিবেচনায় ছোট আকারের রম্য রচনায় ঠাঁসা এই “লোকাল রম্য” বইটি। অনেকেই বলে থাকেন লোক হাসানো কঠিনতম কাজ। রম্য লেখক হওয়া তাই সবার হয়ে ওঠে না। তবে প্রথম বইয়ে কঠিনতমকে খুব সহজ ছকে নিয়ে সৃষ্টিশীল ছিলেন লেখক অর্পন দাশগুপ্ত।
বাংলাদেশের সমসময় রম্যের আদলে সুনিপুণভাবে উপস্থাপিত “লোকাল রম্য” বইয়ে। পরিবার, সমাজ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্র ব্যবস্থায় হাস্যকর উপাদান লেখকের চোখ এড়ায়নি। শুধু দেশ নয় বিশ্ববীক্ষণ , অর্থনীতি, প্রযুক্তি দুনিয়া, চলচ্চিত্র জগতের মতো নানা বিষয়ের খুঁটিনাটি লেখক রম্যের ছলে তুলে ধরে মুন্সিয়ানার পরিচয় দিয়েছেন।
বইয়ের ভূমিকায় লেখক অর্পণ দাশগুপ্ত লিখেছেন, “এই বইটির সারমর্ম তথা অন্তঃনিহিত বিষয়বস্তু যদি আপনাদের মনে এতটুকু আনন্দের দোলা দিতে পারে, তবে আমি মনে করব এই বইটির পেছনে ব্যয়িত শ্রম আমার স্বার্থকতায় পরিণত হয়েছে।”
“লোকাল রম্য” পাঠ শেষে পাঠকের মনে হবে লেখক স্বার্থক। শুধুমাত্র দোলা নয়, এই লেখক অর্পণ সক্ষম হাস্যরসের হুল্লোড় প্রবাহে। ৪৮ পৃষ্ঠার “লোকাল রম্য” বইয়ের প্রচ্ছদ এঁকেছেন স্যাটায়ার ম্যাগাজিন উন্মাদ সম্পাদক, জনপদের সক্রিয়তম কার্টুনিস্ট ও গ্রাফিক নভেল শিক্ষক আহসান হাবীব। শুভ্র প্রকাশ প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত বইটির দাম ১৫০ টাকা। দুঃখবোধ ছাপিয়ে হাস্যরসের ফোয়ারা উন্মোচনে “লোকাল রম্য” পাঠের অভিজ্ঞতা এক কথায় দারুণ!