সুন্দরতম শৈশব। আর এর স্মৃতিচারণ সুলেখনীতে হয় অনবদ্য। লেখিকা সোনালী ইসলামের বই “হারানো পেশা, পুরনো গান” এরই নজির।
সোনালী ইসলামের জন্ম কলকাতায়। দেশভাগের পর সপরিবারে চলে আসেন যশোরে। কলকাতা ও যশোরের শৈশবের স্মৃতি নিয়ে তার এ বই। ছোটবেলার টুকরো টুকরো স্মৃতি থেকে তিনি বেছে নিয়ে পেশাজীবীদের অংশটুকু। যারা ছিলেন একদা। এখন নেই। হারিয়ে গেছেন কালের গর্ভে। পেশাজীবীদের এই হারিয়ে যাওয়া লেখিকার হৃদয়ে ক্ষরণ ঘটায়। তা অন্যন্য ভঙ্গীতে মনে করায় এই বই রূপ নিয়েছে ইতিহাসের আঁকড়ে।
কলকাতার ‘‘দ্য কাফে টেবল'' প্রকাশ করেছে সোনালী ইসলামের এই বই “হারানো পেশা, পুরনো গান”। দেশীয় কোনো প্রকাশনা সংস্থা নিজ দেশের হারানো এমন ঐতিহ্য নিয়ে সুলিখিত বইটি প্রকাশে কেন উদ্যোগী হলো এটি বিস্ময়কর লাগতে পারে যেকারও। তারপরও পাঠকদের সৌভাগ্য বইটি অবশেষে প্রকাশ হয়ে কিছু সংবেদশীল মানুষকে বহু কিছু ভাববার উপলক্ষে পরিণত করেছে।
হারানো পেশা নিয়ে ইতিহাস চর্চা এই প্রথম নয়। কিন্তু আলোচ্য নিজের জীবনের পরতে পরতে সঙ্গে মিলিয়ে ঐতিহ্য বয়ান এই বইকে ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে।
লেখিকা সোনালী ইসলামের লেখার বড় অংশজুড়ে তার শৈশবের যশোর। এ এলাকার মানুষের আঞ্চলিক ভাষার দলিল হিসেবেও বইটি গ্রাহ্য হতে পারে। প্রকাশনের মানে বেশ উন্নত এ বই। লেখার সঙ্গে পাতাময় অসাধারণ ইলাস্ট্রেশনে সৃষ্টিশীলতাই প্রকাশ পেয়েছে।
বইয়ের “হারানো গান” অধ্যায়টি অনেকেরই চোখ খুলে দেবে। গান নিয়ে এমন স্মৃতি প্রায় সবারই আছে। তবে লিখে প্রিয় গান ও গায়ক সম্পর্কে অনুভূতি প্রকাশ কজন করতে পারেন?
এমন বহু কারণেই সোনালী ইসলাম লিখিত “হারানো পেশা, হারানো গান” বইটি এ সময়ে খুব প্রাসঙ্গিক হয়েছে উঠতে পারে। হারানো বেদনায়ই তো আমরা জর্জরিত। অতীত তাই লাগে বড় ভালো। প্রিয় স্মৃতিচারণের আবেগে পাঠককে প্রফুল্ল করে এ বই।