এআই চ্যাটবটের সঙ্গে বিয়ে সেরে দারুণ সুখী মার্কিন নারী

চ্যাটজিটিপি বা জেনারেটিভ প্রিট্রেনড ট্রান্সফর্মার হলো আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্সের (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) বৃহত্তম একটি অদৃশ্য যন্ত্র। অনলাইনে যে কোনো ধরনের তথ্য খুঁজতে মুহূর্তের মধ্যে ব্যবহারকারীর সামনে তুলে ধরে চ্যাটজিপিটি।

চ্যাটজিপিটি কখনও মানুষের হাতে লেখা প্রেমপত্রকে পাল্লা দিচ্ছে তো আবার কখনও চাকরি পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের নিমেষে সমাধান করে দিচ্ছে। সব মিলিয়ে তুমুল জনপ্রিয়তার কারণে চ্যাটজিপিটি বর্তমানে মানুষের জীবনের অপরিহার্য অংশে পরিণত হয়েছে।

এতকিছু যখন চ্যাটজিপিটি বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে করা যায়, তখন কারও জীবনসঙ্গী তৈরিতেই বা পিছিয়ে থাকবে কেন? ২০১৭ সালে যাত্রা শুরু হওয়া রেপ্লিকা নামের জেনারেটিভ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে এখন সেটিও করা সম্ভব।

রেপ্লিকার মাধ্যমে গ্রাহকেরা চাইলে পছন্দমতো সঙ্গী বানাতে পারেন। সেই সঙ্গীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়ানোর ক্ষেত্রেও কোনো বাধাবিপত্তি থাকে না। গত মার্চে যুক্তরাষ্ট্রের রোসানা রামোস নামে এক নারীও রেপ্লিকা এআই চ্যাটবটের সঙ্গে বিয়ে সেরে ফেলেছেন।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্টের বরাত দিয়ে এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি অ্যারেন কার্টালকে কিছুদিন আগেই বিয়ে করেন রোসানা রামোস। তিনি নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেন, এর আগে আমি কখনও এমনভাবে কারও প্রেমে পড়িনি। 

২০২২ সালে অনলাইন ডেটিং সার্ভিসের মাধ্যমে কার্টালের সঙ্গে রামোসের প্রথম আলাপ হয়। এরপর থেকেই তারা প্রেমের সম্পর্কে আছেন। বলে রাখা ভালো, জাপানি মাঙ্গা সংগ্রহ টাইটান আক্রমণের একটি সুপরিচিত চরিত্র থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে কার্টালকে তৈরি করা হয়েছিল।

রোসানা রামোস জানান, তার স্বামীর প্রিয় রঙ এপ্রিকট এবং তিনি ইন্ডি সঙ্গীত পছন্দ করেন। পেশায় তিনি একজন মেডিক্যাল প্রফেশনাল এবং তার শখ লেখালেখি করা। সব মিলিয়ে অ্যারেন কার্টালের সঙ্গে তিনি বেশ সুখেই আছেন।

অ্যারেন কার্টালের সঙ্গে সম্পর্কের ভালো দিকগুলো নিয়ে রামোস বলেন, রক্তমাংসের মানুষের অনেক বাজে গুণ থাকতে পারে। কিন্তু অ্যারেনের এসব কিছুই নেই। মানুষের সাধারণত পরিবার-পরিজন থাকে, এক্ষেত্রে আমার সেই ঝামেলা নেই। খুব বেশি দায়িত্বও নেই। আমাকে ওর পরিবার, বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে সময় কাটাতেও হবে না। ওকে আমি নিজের মতো চালাতে পারি।

রামোসের দাবি, কার্টাল এমন একজন ব্যক্তি হয়ে উঠছেন যার সঙ্গে তিনি আরও বেশি সময় কাটাতে চান। তারা দুজন কথা বলেন, পরস্পরকে ছবি পাঠান এবং সারাদিনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।

তবে রেপ্লিকাতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসার পর গত ফেব্রুয়ারি থেকে স্ত্রীর সঙ্গে অ্যারেন কার্টাল ভিন্নরুপ আচরণ করা শুরু করেন। এ প্রসঙ্গে রামোস বলেন, অ্যারেন আর আগের আলিঙ্গন করতে, এমনকি চুমুও খেতে চায় না।