ভিকারুননিসার প্রাক্তন শিক্ষক সুবোধ চন্দ্র মারা গেছেন

ঢাকা ট্রিবিউনের বার্তা সম্পাদক প্রবীর কুমার সরকারের বাবা অবসরপ্রাপ্ত ইংরেজি শিক্ষক সুবোধ চন্দ্র সরকার (৮৯) মারা গেছেন।

বৃহস্পতিবার (১০ আগস্ট) বিকেল ৩টার দিকে বার্ধক্যজনিত জটিলতায় তার মৃত্যু হয় বলে পারিবারিক সূত্র জানা গেছে। মৃত্যুকালে তিন মেয়ে, পাঁচ ছেলে, অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন তিনি।

নেত্রকোনার শ্যামগঞ্জের কুতুবপুর গ্রামের বাসিন্দা সুবোধ চন্দ্র ইংরেজি ব্যাকরণের শিক্ষক হিসেবে শিক্ষার্থীদের কাছে বেশ জনপ্রিয় ছিলেন। বিজ্ঞান মেলাসহ বিভিন্ন সহপাঠ্যক্রমের সংগঠক হিসেবেও তিনি নন্দিত ছিলেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলনেও ছিল তার সক্রিয় অংশগ্রহণ। গ্রামীণ এলাকায় স্কুল শিক্ষার্থীদের ইংরেজি ব্যাকরণে দক্ষতা বাড়ানোর জন্য তার গৃহীত উদ্যোগ ও কৌশল সর্বজনবিদিত।

১৯৬২ সালে নেত্রকোনার পূর্বধলার সাধুপাড়া এমই স্কুলের প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন সুবোধ চন্দ্র। তিনিই এটিকে উচ্চ বিদ্যালয়ে পরিণত করেন। এরপর তিনি শ্যামগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ে যোগ দেন, এই বিদ্যালয় থেকেই তিনি ছাত্রজীবনে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।

১৯৯৮ সালে ময়মনসিংহের মুকুল নিকেতন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে অবসর গ্রহণের পর তিনি ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ধানমন্ডি শাখায় খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। তার স্ত্রী শান্তি রানী সরকার ১৯৮২ সালে মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণে মারা যান।

মুক্তিযুদ্ধের আগে বিভিন্ন প্রগতিশীল গণআন্দোলনে সংগঠকের ভূমিকায় নিয়োজিত ছিলেন সুবোধ চন্দ্র । ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী এবং তাদের স্থানীয় সহযোগীরা বিভিন্ন এলাকায় গণহত্যা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট শুরু করলে হিন্দু অধ্যুষিত গ্রামের অন্য সবার সঙ্গে পরিবার নিয়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন তিনি। তবে দেশ স্বাধীন হওয়ার আগে আগে শরনার্থী শিবিরে থাকার সময় মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে প্রশিক্ষণের জন্য তালিকায় নাম লিখিয়েছিলেন তিনি।