বায়ুদূষণের প্রভাব থেকে ফুসফুস সুরক্ষিত রাখতে খেতে পারেন যেসব খাবার

দীর্ঘদিন ধরে বায়ুদূষণে ভুগছে ঘনবসতিপূর্ণ শহর ঢাকা। সারাবছর পরিবেশে বায়ুদূষণের প্রভাব থাকলেও শীতের মৌসুমে দূষণের মাত্রা আরও বেড়ে যায়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুসারে, বায়ুদূষণের ফলে স্ট্রোক, হৃদরোগ, ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ, ফুসফুসের ক্যান্সার এবং তীব্র শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণের কারণে মৃত্যুহার বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে বিশ্বব্যাপী প্রতিবছর আনুমানিক ৭০ লাখ মানুষ মারা যায়।

যারা ফুসফুসের সমস্যায় ভুগছেন কিংবা হাঁপানি বা শ্বাসকষ্টের সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য দূষণের এই শহরে শীতের সময়টা তাই একটু বেশিই বিপজ্জনক। এছাড়া বায়ুদূষণের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিশুরাও। এই সময়ে তাই সবার জন্যই বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।

যেহেতু বাতাসে দূষণের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ আমাদের হাতে নেই, তাই ফুসফুস ভালো রাখতে জীবনযাপনে আনতে হবে কিছুটা পরিবর্তন। বিশেষ করে পরিবর্তন আনতে হবে খাদ্যাভাসে। ভিটামিন, অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টে ভরপুর বেশ কিছু খাবার ফুসফুসের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়ক। চলুন জেনে নেওয়া যাক সে সম্পর্কে-

সাইট্রাসজাতীয় ফল

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, শরীরে ভিটামিন সি এবং ই-এর ঘাটতি থাকলে ফুসফুস সংক্রান্ত সমস্যা বেড়ে যায়। যেকোনো ধরনের লেবু, পেয়ারার মধ্যে ভিটামিন সি-এর পরিমাণ বেশি। তাই নিয়মিত এই খাবারগুলি খেলে অ্যাজ়মার সমস্যা নিয়ন্ত্রণে থাকে।

হলুদ

অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি উপাদনে ভরপুর হলুদ। এছাড়াও হলুদে রয়েছে কারকিউমিন। যা ফুসফুস থেকে টক্সিন দূর করতে সাহায্য করে। সকালে খালি পেটে কাঁচা হলুদ খেলে এমন অনেক সমস্যাই দূর করা যায়। রাতে ঘুমোতে যাওয়ার সময় ঈষদুষ্ণ দুধে এক চিমটে হলুদ দিয়ে খেলেও দারুণ উপকার পাবেন।

ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড

দূষিত এলাকায় থাকলে ফুসফুসে বিভিন্ন ধরনের দূষিত পদার্থ জমতে পারে। সেই টক্সিন দূর করতে সাহায্য করে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড। বিভিন্ন ধরনের বাদামের মধ্যে ওমেগা-৩ রয়েছে যথেষ্ট পরিমাণে। এছাড়া, সামুদ্রিক বেশ কিছু মাছ খেলেও ওমেগা-৩ পাওয়া যায়।

পালং শাক

পালং শাকে রয়েছে বিটা-ক্যারোটিন, জিজান্থিন, লুটেইন এবং ক্লোরোফিল। এই সব উপাদানই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তুলতে এবং ফুসফুস থেকে টক্সিন দূর করতে সাহায্য করে।

বেরিজাতীয় ফল

অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি বেরিজাতীয় ফলে। তাই নিয়মিত ব্লুবেরি, স্ট্রবেরি বা রাস্পবেরি খাওয়া যেতেই পারে। তবে এই ধরনের ফল বেশ খরচসাপেক্ষ। তাই এর বদলে বিভিন্ন ধরনের আঙুর, কিশমিশও খেয়ে দেখতে পারেন।

সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা