বার্ধক্যের নানা অসুখ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যের কারনাল শহরের ৮০ বছর বয়সী বাসিন্দা দর্শন সিং। পাতিয়ালা শহরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত বৃহস্পতিবার (১১ জানুয়ারি) চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপর তার মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে করে পাতিয়ালা শহর থেকে কারনালে নেওয়া হচ্ছিল। সঙ্গে ছিলেন এক নাতি।
বাড়ি ফেরার পথে রাস্তার একটি গর্তে পড়ে প্রবল ঝাঁকুনি খায় অ্যাম্বুলেন্সটি। নড়ে ওঠে দর্শন সিংয়ের দেহ। এ সময় তার নাতি টের পান দর্শন সিংয়ের দর্শনের হৃৎপিণ্ডের স্পন্দন। সঙ্গে সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্সচালককে কাছের একটি হাসপাতালে যেতে বলেন। সেখানে চিকিৎসকেরা জানান দর্শন বেঁচে আছেন। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।
ওই হাসপাতালের একজন চিকিৎসক বলেন, “আমাদের কাছে যখন দর্শন সিংকে আনা হয়, তখন তার হৃৎস্পন্দন ছিল। কিছুটা সজাগও ছিলেন।”
তবে তার অবস্থা এখনো আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। তাকে ভর্তি রাখা হয়েছে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ)। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, দর্শনের ফুসফুসে সংক্রমণ রয়েছে। তাই তার শ্বাস নিতে বেশ কষ্ট হচ্ছে।
এদিকে, দর্শন সিংয়ের মরদেহ বাড়িতে আনার খবরে সেখানে ভিড় করে স্বজনরা। শেষকৃত্যের জন্য কাঠ জোগাড়ও করে ফেলেছিলেন পরিবারের সদস্যরা। তবে তার জীবিত থাকার খবর পেয়ে পরিবেশ বদলে যায়। শোকের বদলে শুরু হয় আনন্দ।
দর্শন সিংয়ের আরেক নাতি বলোয়ান সিং বলেন, “বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে পাতিয়ালা থেকে আমার ভাই দাদার মৃত্যুর খবর দিলেন। জানালেন, শেষকৃত্যের জন্য দেহ বাড়ি নিয়ে আসছেন। আমরা আত্মীয়স্বজন ও অন্যদের খবরটি জানাই। তাদের জন্য খাবারের বন্দোবস্তও করি। শেষকৃত্যের জন্য জোগাড় করা হয় কাঠও।”