গোলাপ ফুলকে বলা হয় ভালোবাসার প্রতীক। তাই ভালোবাসা দিবসের সপ্তাহের প্রথম দিনটিকে রোজ ডে অর্থাৎ গোলাপ দিবস হিসেবে পালন করা হয়। আজ ৭ ফেব্রুয়ারি রোজ ডে’তে গোলাপের কদর তাই বছরের অন্য দিনগুলোর চেয়েও একটু বেশি।
তবে আবহমানকাল ধরে সৌন্দর্যের প্রতীক হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসা গোলাপের রয়েছে কিছু ভেষজ গুণ। প্রিয় মানুষকে খুশি করার পাশাপাশি শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের বিভিন্ন ধরনের উপকারে গোলাপের জুড়ি নেই। চলুন জেনে নেওয়া যাক গোলাপের কিছু ভেষজ ও ঔষধি গুণ সম্পর্কে-
ওজন নিয়ন্ত্রণ
গোলাপ পাপড়ি শরীরকে শীতল করে তোলে। শারীরিক ভারসাম্য রক্ষা করে। পরিপাক প্রক্রিয়া ও মেটাবলিজমের হার বজায় রাখে। এতে শরীরের ক্ষতিকারক পদার্থ অকার্যকর হয়ে বেরিয়ে যায়। ফলে ধীরে ধীরে ওজন নিয়ন্ত্রণে আসে। এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে কিছু গোলাপের পাপড়ি ছেড়ে দিন। পানি গোলাপি রং ধারণ করা পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। ওই পানিতে মধু ও দারুচিনি মিশিয়ে প্রতিদিন সকালে পান করলে তা ওজন কমাতে সহায়ক। এছাড়া গোলাপে ভিটামিন এবং খনিজ পদার্থ রয়েছে যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
ত্বকের যত্ন
গোলাপ ফুলে পলিফেনল রয়েছে। এটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা শরীরকে ফ্রির্যাডিকাল এবং কোষের ক্ষতি থেকে রক্ষা করে। নিয়মিত গোলাপের পাপড়ি মুখে ঘষলে ত্বকের রুক্ষতা দূর হয়। এই ফুলের রসে যেসব উপাদান থাকে সেগুলো ত্বক সতেজ রাখতে সহায়ক। এছাড়া গোলাপজল চেহারার তৈলাক্তভাব দূর করে ত্বককে মোলায়েম রাখে এবং ব্রণ দূর করে। মানসিক দুশ্চিন্তার ফলে চেহারায় পড়া ছাপ মুছতেও গোলাপের রস উপকারী। গোলাপে থাকা “ভিটামিন-এ” এবং “ভিটামিন-ই” গোলাপ ত্বককে হাইড্রেট এবং টানটান করতে সহায়তা করে। এটি শরীরের প্রাকৃতিক কোলাজেন উৎপাদন বাড়ায়।
ডিপ্রেশন থেকে মুক্তি
স্ট্রেস উপশমকারী বৈশিষ্ট্য রয়েছে গোলাপে। এর প্রাকৃতিক অ্যারোমেটিকস স্ট্রেস এবং উত্তেজনা উপশম করতে সাহায্য করে। আমরা অনেক সময় সময় ডিপ্রেশন বা বিভিন্ন মানসিক চাপে থাকি। অনিদ্রা ও পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাবেও এমন হতে পারে। এসব সমস্যা সমাধানে গোলাপের পাপড়ি এবং নির্যাস খুব কার্যকর। গোলাপের ঘ্রাণ মন রাখে শান্ত ও ফুরফুরে। এক্ষেত্রে সাধারণভাবে ঘ্রাণ নেওয়ার পাশাপাশি গরম পানিতে গোলাপের পাপড়ি ছিটিয়ে গোসল করতে পারেন।